সংসদে ভূমিমন্ত্রী
দুর্নীতির লাগাম টানতে ১১ কৌশলে ভূমি মন্ত্রণালয়

উপজেলা ভূমি অফিসে দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ই-নামজারি থেকে শুরু করে হটলাইন ১৬১২২ পর্যন্ত মোট ১১টি নির্দিষ্ট উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু।
বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য তুলে ধরেন তিনি। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
ভূমিমন্ত্রী মন্ত্রণালয় থেকে গৃহীত প্রধান পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন। সেগুলো হলো-
১. শতভাগ ডিজিটাল নামজারি (e-Mutation): দালালদের হস্তক্ষেপ বন্ধের লক্ষ্যে ই-নামজারি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এখন সেবাগ্রহীতাদের অনলাইন আবেদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আবেদনের প্রতিটি ধাপে (যেমন: নোটিশ জারি, শুনানি, অনুমোদন) এসএমএস-এর মাধ্যমে আবদনকারীকে জানানো হয়, যাতে মাঝপথে কেউ অবৈধ সুবিধা নিতে না পারে।
২. অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর: ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাদের নগদ টাকা লেনদেনের সুযোগ বন্ধ করতে অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এখন নাগরিকরা তাদের এনআইডি (NID) ব্যবহার করে বিকাশ, নগদ, রকেট ও অন্যান্য অনলাইন ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে সরাসরি সরকারি কোষাগারে ভূমি উন্নয়ন কর জমা দিতে পারছেন। এতে অবৈধ অর্থ লেনদেনের সুযোগ প্রায় নেমে শূন্যে এসেছে।
৩. কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ও জবাবদিহিতা: মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় থেকে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। এরমধ্যে সারপ্রাইজ ভিজিট- জেলাপ্রশাসক (DC) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (UNO)-এর মাধ্যমে নিয়মিত আকস্মিক পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের পরিদর্শন/দর্শন করছেন। বিভাগীয় ব্যবস্থা-দায়িত্ব অবহেলা বা অনুপস্থিত প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শোকজ এবং বিভাগীয় মামলার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
৪. ভূমি সেবা হটলাইন (১৬১২২): যে কোন প্রান্তিক পর্যায়ের ভূমি অফিসে যদি কেউ ঘুষ দাবি করে বা দালাল চক্রের হয়বানির শিকার হন, তবে সরাসরি ১৬১২২ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রয়েছে। এটি ৭ দিন ২৪ ঘন্টা সচল এবং প্রাপ্ত অভিযোগগুলো সরাসরি ভূমি মন্ত্রণালয় হতে তদারকি করা হয়। এছাড়াও হটলাইনের মাধ্যমে ভূমিসেবা সংক্রান্ত পরামর্শ প্রদান করা হয়ে থাকে। ৫. ডিজিটালাইজড ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ (DLMS): ম্যাপ বা নকশা জালিয়াতি বন্ধ করতে সরকার এখন ডিজিটাল সার্ভের (Digital Survey) পাইলটিং পরিচালনা করছে। এর ফলে ড্রোন ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নিখুঁত ম্যাপ তৈরি হচ্ছে, যা রেকর্ড সংশোধনের ক্ষেত্রে মানুষের হস্তক্ষেপ বা ভুল কমিয়ে আনবে। এর ধারাবাহিকতায় সারা দেশে ডিজিটালাইজড জরিপ করা হবে।
৬. নাগরিক সেবা কেন্দ্র: ঢাকায় তেজগাঁওস্থ ভূমি ভবনে নাগরিকরা সরাসরি গমন করে বিনা মূল্যে সেবা নিতে পারছেন। দেশের সকল জেলায় জেলাপ্রশাসকের কার্যালয়ে নাগরিক সেবা কেন্দ্র স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।
৭. ই-পর্চা: land.gov.bd পোর্টালে গিয়ে ঘরে বসেই যেকোন মৌজার খতিয়ান দেখাসহ নির্ধারিত ফি দিয়ে ডাকযোগে পর্চা সংগ্রহ করা যায়, যা দালালের দৌরাত্ম ও অতিরিক্ত খরচ কমায়।
৮. ভূমি অ্যাপ: ভূমি সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য ও সেবা প্রদান এবং ভূমিসেবা বিষয়ে তথ্য নাগরিকদের অবগত করার জন্য ভূমিসেবা অ্যাপ চালু করা হয়েছে। এছাড়া কিউআর কোড (QR Code) যুক্ত ডিজিটাল খতিয়ান ও দাখিলা যে কোনো সময়ে অনলাইন থেকে যাচাই করা যায়।
৯. ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্র: নির্ধারিত ফি-এর বিনিময়ে ভূমিসেবা প্রাদানের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয় সারা দেশে ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্র চালু করেছে।
১০. অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থাপনা সিস্টেম: ভূমি বিষয়ে যাবতীয় অভিযোগ অনলাইনে দাখিলের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয় অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থাপনা সিস্টেম চালু করেছে।
১১. এছাড়াও ভূমি অধিগ্রহণ সিস্টেম, লিজ এন্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমসহ অন্যান্য সফটওয়্যার তৈরির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর মাধ্যমে দুর্নীতি আরও কমে যাবে।
ভিওডি বাংলা/এমএস







