মজুদ ভোজ্যতেলের খোঁজে বিজিবি-র্যাব, ৩ লাখ লিটার জব্দ

জ্বালানি সংকটের অস্থিরতার মধ্যেই ভোজ্য তেল নিয়ে যে কারসাজি চলছে- তা ঠেকাতে মাঠে নামানো হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি সদস্যদের। সঙ্গে ছিল র্যাব, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে ভোজ্যতেল মজুদকারীর খোঁজে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা্কারী বাহিনী।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার (৯ এপ্রিল) পর্যন্ত দেশব্যাপী অভিযান চালিয়ে ৩ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ লিটার তেল জব্দ করেছে র্যাব ও বিজিবি।
র্যাব জানায়, এ সময়ের মধ্যে দেশব্যাপী ২০টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে ১ লক্ষ ৬৫ হাজার ২৫ লিটার ভোজ্য তেলের অস্বাভাবিক মজুদ চিহ্নিত করার পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক সর্বমোট ৩ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এর আগে গত ৮ এপ্রিল র্যাব দেশব্যাপী ৯টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে ১ লক্ষ ৪২ হাজার ১৭৩ লিটার ভোজ্য তেলের অস্বাভাবিক মজুদ চিহ্নিত করার পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক সর্বমোট ৬ লক্ষ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ তারাবো কাজীপাড়া চৌরাস্তায় বিজিবি-র্যাবের যৌথ অভিযানে অবৈধভাবে মজুদ প্রায় ২০০০ লিটার সয়াবিন তেল জব্দ হয়েছে। গুদামটি সিলগালা করা হয়েছে।
বিজিবির নারায়ণগঞ্জ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মির্জা মোহাম্মদ আরাফাত এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার দিনগত রাত একটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজু ও খোরশেদ নামে দুই ব্যক্তির গুদামে অভিযান চালিয়ে ৯টি ব্যারেলে ভর্তি ছিল অবস্থায় প্রায় ২০০০ লিটার খোলা সয়াবিন তেল পাওয়া যায়।
‘স্থানীয় বাজার থেকে খোলা সয়াবিন তেল সংগ্রহ করে অবৈধভাবে মজুদ, বোতলজাত করণ এবং 'বন্ধন প্লাস' ও 'বিসমিল্লাহ' নামক স্টিকার লাগিয়ে বাজারজাত করণের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়।’
খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারজানুল হক উপস্থিত হন এবং গুদাম সিলগালা করার নির্দেশ দেন। অবৈধভাবে মজুদকৃত তেল এবং সংশ্লিষ্ট মালিক পক্ষের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান ওই বিজিবি কর্মকর্তা।
র্যাব জানায়, ৯ ফেনী জেলার ইসলাম রোড এলাকায় ১ টি ভোজ্য তেলের গুদাম ঘরকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
যশোর জেলার কোতোয়ালি থানা এলাকার মেসাস নওয়াব মিলকে ১৬ হাজার ৫২৪ লিটার সয়াবিন তেল অবৈধভাবে মজুদ রাখার অপরাধে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
রংপুরে ২টি প্রতিষ্ঠানকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল থানাধীন বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮ হাজার ৫০০ লিটার ভোজ্য তেল মজুদ রাখার দায়ে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
নরসিংদী সদরে ভোজ্য তেলের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্য নেওয়ার কারনে এক ব্যবসায়ীকে ১০হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে, রাজধানী ঢাকার ডেমরা থানা এলাকায় এবং হবিগঞ্জ জেলা সদরে অবৈধভাবে ভোজ্যতেলর উৎপাদন, মজুদ, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের লেভেলিং এবং অতিরিক্ত মূল্য নেওয়ার অপরাধে চারটি প্রতিষ্ঠানকে ১ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকা জরিমান এবং একটি প্রতিষ্ঠানসহ সকল প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত মজুদ না করার জন্য সতর্ক এবং নির্দেশনা প্রদান করেন।
ভিওডি বাংলা/আরআর/আরকেএইচ







