ট্রাম্পের হুমকি উপেক্ষা করে ইরানজুড়ে মানব ঢাল

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে ইরান। হামলার আশঙ্কায় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় মানবঢাল তৈরি করে অবস্থান নিয়েছে দেশটির নারী ও শিশুরা।
ইরানের স্থানীয় সময় বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৪টায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আলটিমেটাম শেষ হচ্ছে। এই আলটিমেটাম শেষ হওয়া মাত্রই ইরানজুড়ে তাণ্ডব চালাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ট্রাম্প।
এরই মধ্যে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প হুমকি দিয়ে লেখেন, ‘আজ রাতেই একটি সভ্যতা (ইরান) সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে, যা আর কখনো ফিরে আসবে না।’
ওই পোস্টে ইরানের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন হয়েছে বলেও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি লেখেন, ‘নতুন শাসন ব্যবস্থায় আলাদা, আরো বুদ্ধিমান এবং কম উগ্র মানসিকতার লোকেরা প্রাধান্য পাবেন। হয়তো কোনো বিপ্লবাত্মক অসাধারণ কিছু ঘটতে পারে, কে জানে?’
ট্রাম্প আরও বলেন, আজকের রাতটি বিশ্বের দীর্ঘ ও জটিল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত। ৪৭ বছরের চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও মৃত্যুর অধ্যায় অবশেষে শেষ হতে পারে।
ট্রাম্পের এই হুংকারের পর তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে থমকে গেছে আলোচনা। সমঝোতার উদ্যোগ থেকে নিজেদের পুরোপুরি সরিয়ে নিয়েছে মধ্যস্থতাকারীরা।
ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় ট্রাম্পের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে অচলাবস্থা কাটানোর সম্ভাবনা হারিয়ে যেতে বসেছে।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার মাধ্যমে ইরান ওয়াশিংটনকে অবাধ্যতা ও অসন্তোষের বার্তা দিতে চায়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বেসামরিক নাগরিকদের প্রতিবাদের ছবি সম্প্রচার করছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, নারী ও শিশুরা গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে অবস্থান নিয়েছে। নারী ও শিশুরা পতাকা নাড়ছে আর স্লোগান দিচ্ছে।
ফক্স নিউজকে টেলিফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের কোনো সম্ভাবনা নির্ধারণ করতে চাই না। রাত (যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময়) ৮টা আসছেই।’
ফক্স নিউজের সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী ব্রেট বায়ার বলেন, ‘তিনি (ট্রাম্প) বলেছেন, এমন একটি হামলা হবে যা তারা (ইরান) আগে কখনো দেখেনি। এখন পর্যন্ত তিনি এই অবস্থানেই আছেন। তবে তিনি বলেছেন, আজ যদি আলোচনা এগিয়ে যায় এবং কোনো বাস্তব ফল আসে, তাহলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। আমরা আমাদের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।’
গত রোববার ট্রাম্প এক পোস্টে কড়া হুমকি দিয়ে বলেন, ‘মঙ্গলবার হবে বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংসের দিন, সেতু ধ্বংসের দিন’।
পরে সময় নির্দিষ্ট করে বলেন, ‘মঙ্গলবার, রাত ৮টা (ইস্টার্ন টাইম)!’ সে অনুযায়ী ইরানের সময় বুধবার ভোরে শেষ হচ্ছে চূড়ান্ত সময়সীমা।
ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ/এমএস







