• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

জেল থেকে সন্ধ্যার পর কোথায় যেতেন শেখ হাসিনা?

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০৫ পি.এম.

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশে জরুরি অবস্থা জারির পর একপর্যায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করে সংসদ ভবনের বিশেষ কারাগারে রাখা হয়েছিল।  তখন দুই নেত্রীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর যে কথাবার্ত হতো সে বিষয়ে ডিবি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বিস্তারিত জানিয়েছেন সাবেক সেনাকর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। 

জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, ২০০৭ সালের ১২ জানুয়ারি বঙ্গভবনে শপথের মাধ্যমে ফখরুদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যাত্রা শুরু হয়। এর আগেই ফখরুদ্দীন আহমেদকে প্রধান উপদেষ্টা করার বিষয়টি দুই নেত্রীকে জানানো হয়েছিল। 

জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ওয়ান ইলেভেন সরকার পরিচালনা বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলেন, যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ফখরুদ্দীন নেতৃত্বাধীন সরকারকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে পরামর্শ করতে হতো। অনেক সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয় সেনাবাহিনী তৈরি করে দিত। দুই নেত্রীসহ রাজনৈতিক দলের নেতা, ব্যবসায়ীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে সেনাবাহিনীই সিদ্ধান্ত নেয়। 

তবে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের আগে  দুটি প্রভাবশালী দেশকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। গ্রেপ্তারের পর তাদের সংসদ ভবনের বিশেষ কারাগারে রাখার যে সিদ্ধান্ত সেটিও সেনাবাহিনীর সিদ্ধান্তে হয়েছিল।

মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানান, শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর তাদের সঙ্গে নির্বাচন, রাজনৈতিক ভবিষ্যৎসহ নানা ইস্যুতে দরকষাকষির কাজটি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ডিজিএফআই মুখ্য ভূমিকা পালন করত। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফজলুল বারী চৌধুরী এবং মেজর জেনারেল এটিএম আমিন বেশিরভাগ সময় কারাগারে গিয়ে দুই নেত্রীর সঙ্গে বৈঠক করতেন। 

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শেষ দিকে পর্দার আড়ালে দরকষাকষি করতে শেখ হাসিনা প্রায়শই সংসদ ভবন এলাকার বিশেষ কারাগার থেকে সন্ধ্যার পর বের হয়ে যেতেন।  বিভিন্ন স্থানে বৈঠক করে ফিরতেন কারাগারে। পর্দার আড়ালে এসব বৈঠক আয়োজনের সব কিছু ডিজিএফআই দেখভাল করত বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। প্রায় দিনই সন্ধ্যার পরে শেখ হাসিনা সংসদ ভবনের বিশেষ কারাগার থেকে বেরিয়ে যেতেন বলে ডিবি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন তিনি।  

মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য এবং বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার যাত্রা শুরু করে। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল টালমাটাল। আর বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে একটি টার্নিং পয়েন্ট ছিল ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি। 

কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে বিচারপতি কেএম হাসান প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেন। বিচারপতি কেএম হাসানকে প্রধান উপদেষ্টা করানোর ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের আপত্তি ছিল। এ ইস্যুটি শেখ হাসিনা ব্যক্তিগতভাবে নিয়েছিলেন। এমন প্রেক্ষাপটে সেনা গোয়েন্দারা কেএম হাসানের সঙ্গে দেখা করে প্রধান উপদেষ্টা না হতে পরামর্শ দেন বলে জানা গেছে। 

অন্যদিকে ইয়াজউদ্দিন সরকারের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকার যে আন্দোলন করছিল, এর পেছনে সেনা গোয়েন্দারা দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দিচ্ছিলেন। তারা পুরো ঘটনাপ্রবাহের ওপর নজর রাখছিল নিবিড়ভাবে।


ভিওডি বাংলা/আরআর/আরকেএইচ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
আমাকে মনোনয়ন না দেওয়ায় বিএনপিকে ধন্যবাদ : রুমিন ফারহানা
আমাকে মনোনয়ন না দেওয়ায় বিএনপিকে ধন্যবাদ : রুমিন ফারহানা
এখন থেকে গুম একটি মানবতাবিরোধী অপরাধ
এখন থেকে গুম একটি মানবতাবিরোধী অপরাধ
মনে হচ্ছে, বিএনপি পুরনো পথেই হাঁটছে : বদিউল আলম
মনে হচ্ছে, বিএনপি পুরনো পথেই হাঁটছে : বদিউল আলম