• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

২৫ প্রতিষ্ঠানের কব্জায় মালয়েশিয়া শ্রম বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০৭ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারকে গুটিকয়েক দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীর কব্জা থেকে মুক্ত করে সকল বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানিকারকরা। তাদের অভিযোগ, অতীতে যারা মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট করে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে, তারাই এবার ‘জিরো কস্টে’ বা বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ভুয়া প্রলোভন দেখিয়ে নতুন করে বাজার দখলের ষড়যন্ত্র করছে। এবার তারা ‘তুরাপ’ (TURAP) নামের একটি নতুন সফটওয়্যার সিস্টেমের মাধ্যমে ২৫টি এজেন্সির সমন্বয়ে নতুন সিন্ডিকেট গঠনের পাঁয়তারা চালাচ্ছে।

‘সিন্ডিকেট বিরোধী বায়রা সদস্যবৃন্দ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করা হয়।

রোববার (৫ এপ্রিল) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে ২০১৬ সাল থেকে একটি অসাধু চক্র একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। দাতো শ্রী মোহাম্মদ আমিন নুর ও মোহাম্মদ রুহুল আমিন স্বপনের নেতৃত্বে এই চক্রটি ২০১৫-২০১৮ এবং ২০২১-২০২৪ সাল মেয়াদে ‘এফডব্লিউসিএমএস’ (FWCMS) সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। সেসময় সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয় ৪৭ থেকে ৭৯ হাজার টাকা হলেও, সিন্ডিকেটের কারণে কর্মীদের ৪ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত গুনতে হয়েছে।

রপ্তানিকারকরা জানান, ব্যাপক দুর্নীতির কারণে ২০২৪ সালে বাজারটি বন্ধ হয়ে যায়। এখন সেই একই চক্র গ্লোবাল এমপ্লয়মেন্ট ফ্যাসিলিটেশন সেন্টার (GEFC) এবং ‘তুরাপ’ (TURAP) সফটওয়্যারের মাধ্যমে আবারও বাজারটি চালুর চেষ্টা করছে। এবার তাদের চমকপ্রদ স্লোগান হলো— ‘জিরো কষ্টে কর্মী প্রেরণ’।

এই প্রস্তাবকে ‘ভুয়া ও অবাস্তব’ আখ্যা দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বর্তমান বিশ্বে বিনা মূল্যে ভিসা পাওয়া একটি দুর্লভ বিষয়। জিরো কস্টের কথা বলে মূলত বাংলাদেশ সরকারকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা চলছে। পর্দার আড়ালে ২৫টি এজেন্সি নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হচ্ছে এবং এই সিন্ডিকেটের সদস্য হওয়ার জন্য প্রতিটি এজেন্সির কাছ থেকে ১৫ কোটি টাকা করে অগ্রিম নেওয়া হচ্ছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।

জনশক্তি রপ্তানিকারকরা আরও জানান, মালয়েশিয়ান মানবসম্পদ মন্ত্রী সম্প্রতি বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে এই ‘তুরাপ’ সফটওয়্যারটি গ্রহণ করার অনুরোধ জানিয়েছেন এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আগামী ১৮ এপ্রিল বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন।

সরকারের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে সিন্ডিকেট বিরোধী বায়রার সদস্যরা বলেন, মালয়েশিয়া সরকার তাদের দেশের কর্মী প্রবেশের অনুমোদন দেবে, কিন্তু বাংলাদেশ থেকে কীভাবে কর্মী বাছাই হবে, মেডিকেল বা ট্রেনিং কোথায় হবে— তা নির্ধারণ করার এখতিয়ার সম্পূর্ণ বাংলাদেশ সরকারের। একটি বিদেশি কোম্পানির সফটওয়্যারের (TURAP) মাধ্যমে দেশের কর্মী রিক্রুট করার অর্থ হলো ‘শেয়ালের কাছে মুরগি বর্গা দেওয়া’।

তারা অবিলম্বে এই সিন্ডিকেটের হোতাদের ফাঁদে পা না দিয়ে, সকল বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সমান অধিকার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।

ভিওড বাংলা/আরআর/আরকেএইচ/এমএস 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মী পাঠানো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে: সংসদে মন্ত্রী
যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মী পাঠানো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে: সংসদে মন্ত্রী
নতুন বেতনকাঠামোর সুপারিশ আরও পর্যালোচনা হবে
নতুন বেতনকাঠামোর সুপারিশ আরও পর্যালোচনা হবে
মানবিক-গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান মির্জা ফখরুলের
মানবিক-গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান মির্জা ফখরুলের