ই-সিগারেট বৈধ করার চক্রান্ত দেখছেন তামাকবিরোধীরা

ধূমপান ও তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ থেকে ই-সিগারেট নিষিদ্ধের বিধান বাতিলের সুপারিশকে 'আত্মঘাতী' বলে আখ্যা দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য ও তামাকবিরোধী কর্মীরা। তারা বলছেন, এই বিধান বাতিল করা হলে দেশের কোটি তরুণ নতুন করে ভয়াবহ নেশা ও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়বে। এর পরেও ই-সিগারেট বৈধ করার চক্রান্তে নেমেছে সিগারেট কোম্পানিগুলো।
রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তামাকবিরোধী বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ই-সিগারেট কোম্পানিগুলো মূলত 'প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য' এবং 'কম ক্ষতিকর'-এই দুটি খোঁড়া যুক্তিতে পণ্যটির বাজার প্রসারের চেষ্টা করছে। কিন্তু বাস্তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং সিডিসি-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ই-সিগারেটকে কখনোই নিরাপদ বা কম ক্ষতিকর বলে স্বীকৃতি দেয়নি। বরং এটি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
বক্তারা বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো অতীতেও 'লাইট', 'মাইল্ড' বা 'ফিল্টারযুক্ত' সিগারেটের নামে কম ক্ষতিকর বলে প্রতারণা করেছে। এখন একই কৌশল ই-সিগারেটের ক্ষেত্রে নেওয়া হচ্ছে। যদি এটি বৈধতা পায়, তবে তা অনায়াসেই শিশু-কিশোরদের হাতে পৌঁছাবে। ইতোমধ্যে স্কুলের বাচ্চাদের ব্যাগেও ই-সিগারেট পাওয়া যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এছাড়া ই-সিগারেটের ডিভাইসে এমডিএমএ-সহ বিভিন্ন ভয়াবহ মাদক ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে, যা দেশের মাদক পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলবে।
সংবাদ সম্মেলনে একটি আশঙ্কাজনক তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, বিগত পাঁচ বছরে দেশে ই-সিগারেটের দোকান প্রায় ৮০ শতাংশ বেড়েছে। স্কুল, কলেজ ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে এসব দোকান গড়ে উঠেছে। বর্তমানে এর ব্যবহারকারীদের প্রায় ৯৫ শতাংশই তরুণ ও শিক্ষার্থী। বিভিন্ন 'ভ্যাপিং ডে' উদযাপন, অনলাইন প্রচারণা এবং রেস্তোরাঁর স্মোকিং জোনে ই-সিগারেট বিক্রির মাধ্যমে যুবসমাজকে টার্গেট করা হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ বিশ্বের ৪২টি দেশে ই-সিগারেট বা ইএনডিএস পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশে বর্তমানে মাত্র ০.২% মানুষ এটি ব্যবহার করলেও, শুধুমাত্র বিদেশি কোম্পানিগুলোর স্বার্থে এটিকে বৈধতা দেওয়ার চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ করেন আয়োজকরা।
তারা আরও বলেন, মহামান্য আপীল বিভাগের এক রায়ে দেশে তামাকের ব্যবহার কমিয়ে আনা এবং নতুন কোম্পানির অনুমোদন না দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। ই-সিগারেট বৈধ করা এই নির্দেশনারও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এছাড়া সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেও তামাক নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় এবং কিশোর-তরুণদের ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে প্রস্তাবিত আইনে ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধের বিধানটি যেকোনো মূল্যে বহাল রাখার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।
বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা), বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি), বাংলাদেশ টোব্যাকো কন্ট্রোল রিসার্চ নেটওয়ার্কসহ বেশ কয়েকটি জনস্বাস্থ্য ও তামাকবিরোধী সংগঠন যৌথভাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
ভিওডি বাংলা/ইস/আরআর







