শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞ: সময় বাড়ল প্রতিবেদন দাখিলের

রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে হত্যাযজ্ঞ চালানোর দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৭ জুন দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
রোববার (৫ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আরও দুই মাস সময়ের আবেদন করেন। পরে তার আবেদন মঞ্জুর করে প্রতিবেদন দাখিলে আগামী ৭ জুন দিন ধার্য করা হয়।
এদিন এ মামলায় গ্রেপ্তার ছয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির ও সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল।
২০১৩ সালের ৫ মে কয়েক দফা দাবিতে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ ডাকে হেফাজত। ওইদিন রাতে তাদের সমাবেশ থেকে বিতাড়নে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক শক্তি প্রদর্শন করে। এতে অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠন অধিকার প্রকাশিত প্রতিবেদনে সমাবেশে ৬১ জনের মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশ করা হয়। ওই বছরের ১৯ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অধিকারের পেজে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ওই ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পৃথক অভিযোগ দাখিল করা হয়। হেফাজত নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে করা এই অভিযোগে মোট ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক সংসদ সদস্য হাজী সেলিম, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, নারায়ণগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল আহমেদ, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশীদ, ডিএমপির সাবেক উপকমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, কমিটির সদস্য অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ, গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ইমরান এইচ সরকার, একাত্তর টিভির সাবেক সিইও মোজাম্মেল হক বাবু, সময় টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আহমেদ জোবায়ের, এবিনিউজ২৪ ডটকমের সম্পাদক সুভাষ সিংহ রায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব নাইমুল ইসলাম খান, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ এবং এনএসআইয়ের মো. মনজুর আহমেদ।
উল্লেখ্য, তাদের মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধেই পৃথক মামলায় ইতোমধ্যে ফরমাল চার্জ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।
ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ







