ইরানে যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ মার্কিন ক্রু উদ্ধার

ইরানের একটি দুর্গম এলাকায় ভূপাতিত হওয়া মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ এক ক্রু সদস্যকে স্থানীয় সময় রবিবার (৫ এপ্রিল) ভোরে মার্কিন বাহিনী উদ্ধার করেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেশটির একাধিক কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত শুক্রবার বিমানের পাইলটকে উদ্ধার করা হয়েছিল।
সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, উদ্ধারকৃত ক্রু সদস্যের শারীরিক অবস্থা এখনও স্পষ্ট নয়। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত শুক্রবার ইরানি বাহিনীর হাতে যখন বিমানটি বিধ্বস্ত হয়, তখন সেটিতে দুজন ক্রু ছিলেন।
ইরানি ইসলামিক বিপ্লবি গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) নজিরবিহীন এই হামলার কৃতিত্ব দাবি করেছে। তাদের দাবি, শুক্রবার সকালে দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে অত্যাধুনিক মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানটিকে গুলি করে নামানো হয়। ইরানি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ধ্বংসাবশেষের ছবি দেখে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এগুলো মার্কিন এফ-১৫ বিমানের অংশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে অনুসারে, শুক্রবার মার্কিন যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত করার পরপরই এর পাইলট নিরাপদে বের হতে (ইজেক্ট) করতে সক্ষম হন। মার্কিন বাহিনীর দুটি সামরিক হেলিকপ্টার ইরানের আকাশে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পাইলটকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। দ্বিতীয় ক্রু সদস্য ৪৮ ঘণ্টা ধরে নিখোঁজ থাকার পর, মার্কিন বাহিনীর সফল অভিযান শেষে তাকেও আজ উদ্ধার করা হয়েছে।
ইরানে ঢুকে মার্কিন বাহিনীর উদ্ধার অভিযানটি ছিল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। গত শুক্রবার পাইলটকে উদ্ধারের সময় একটি মার্কিন হেলিকপ্টার ইরানি বাহিনীর গুলির মুখে পড়ে। এতে হেলিকপ্টারের কয়েকজন ক্রু আহত হন। এছাড়াও তল্লাশি অভিযানে অংশ নেওয়া মার্কিন বাহিনীর একটি এ-১০ ওয়ারথগ বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিমানটির পাইলট পারস্য উপসাগরে ঝাঁপিয়ে পড়লে তাকেও পরে উদ্ধার করা হয়।
সিবিএস নিউজকে মার্কিন বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিউস্টন ক্যান্টওয়েল জানান, গত ২০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে এই প্রথম কোনো মার্কিন যুদ্ধবিমান লড়াইয়ের ময়দানে ভূপাতিত হলো। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত চারটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এর মধ্যে গত ১ মার্চ কুয়েতি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে তিনটি এফ-১৫ বিমান ‘ভুলবশত’ ভূপাতিত হয়েছিল, যাতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
মার্কিন নিরাপত্তা বিশ্লেষক অ্যারন ম্যাকলিন জানান, এই ধরনের মিশনের জন্য মার্কিন সেনাবাহিনী ‘এয়ার ফোর্স প্যারা রেসকিউম্যান’ নামক একটি উচ্চ শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত দল ব্যবহার করে। নিখোঁজ ক্রু সদস্যদের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, জিপিএস ট্র্যাকার এবং বিশেষ এনক্রিপ্টেড রেডিও থাকে, যার মাধ্যমে তারা শত্রু পক্ষ থেকে আড়ালে থেকে নিজেদের অবস্থানের কথা উদ্ধারে আসা বাহিনীকে জানাতে পারেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই উদ্ধার অভিযান নিয়ে খুব একটা কথা বলেননি। তবে শনিবার (৪ এপ্রিল) তিনি ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে না দিলে ইরানের ওপর ‘নরক নেমে আসবে।’
ভিওডি বাংলা/এসআর







