• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

ফুটবল খেলার মাইকিং নিয়ে ৪ গ্রামের সংঘর্ষ, দুই দিনে আহত শতাধিক

ফরিদপুর প্রতিনিধি    ৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫২ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরে ফুটবল খেলার প্রচারে মাইকিং করাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ৪টি গ্রামে বসবাসকারীদের মধ্যকার সংঘর্ষ দুই দিন ধরে চলছে।

ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মনসুরাবাদ বাজার এলাকায় শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ আজ শনিবারও চলছে। এই সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ জনপ্রতিনিধিরা।

দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এ সময় স্থানীয় বাজারের বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়েছে। দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা পর সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যদের যৌথ হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায়ও দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুই দিন আগে মনসুরাবাদ গ্রামের রাহাত নামের এক কিশোর ফুটবল খেলার মাইকিং করছিল। প্রচারণাকালে তার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী খাপুরা গ্রামের জাহিদ ও আজিমের বাগ্‌বিতণ্ডা এবং একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়। এ ঘটনা কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এর জেরে শুক্রবার সন্ধ্যায় মনসুরাবাদ বাজার বণিক সমিতির সভাপতি জিন্নাত মিয়াকে পিটিয়ে আহত করে খাপুরা গ্রামের কয়েকজন যুবক। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে মনসুরাবাদ গ্রামবাসী দেশীয় অস্ত্র, ঢাল ও সড়কি নিয়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নেয়।

অন্যদিকে, খাপুরা গ্রামবাসীর সঙ্গে যোগ দেয় পার্শ্ববর্তী সিংগারডাক ও মাঝিকান্দা গ্রামের লোকজন। তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা ওই সংঘর্ষে একাধিক দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

শুক্রবার রাতের ওই ঘটনার জেরে শনিবার সকাল ৭টা থেকে চার গ্রামবাসী পুনরায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দেশীয় অস্ত্র, ঢাল, সড়কি ও ইটের টুকরো নিয়ে উভয় পক্ষ এলোপাতাড়ি হামলা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু করে। এ সময় মনসুরাবাদ বাজারের দোকানপাটে ব্যাপক হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। ভেঙে ফেলা হয় দোকানগুলোর বৈদ্যুতিক মিটার, ছিঁড়ে ফেলা হয় ডিশ ও ইন্টারনেট সংযোগের লাইন। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে চার পুলিশ সদস্যসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দুপুর ১২টার দিকে থানা-পুলিশের পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, ‘সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশের চার সদস্য আহত হয়েছেন, তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। এখনো কোনো পক্ষই অভিযোগ দেয়নি, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ভিওডি বাংলা/এমএস 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
বাসুদেব ইউনিয়ন ভাঙার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের প্রতিবাদ সমাবেশ
বাসুদেব ইউনিয়ন ভাঙার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের প্রতিবাদ সমাবেশ
ঈশ্বরদীতে মুলাডুলি প্রিমিয়ার লীগ ৩-এর খেলোয়াড় নিলাম অনুষ্ঠিত
ঈশ্বরদীতে মুলাডুলি প্রিমিয়ার লীগ ৩-এর খেলোয়াড় নিলাম অনুষ্ঠিত
নরসিংদীতে মাদরাসায় শিক্ষকের প্রহারে শিশু রক্তাক্ত, হাসপাতালে ভর্তি
নরসিংদীতে মাদরাসায় শিক্ষকের প্রহারে শিশু রক্তাক্ত, হাসপাতালে ভর্তি