• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

নতুন পানি চুক্তি করতে যাচ্ছে ঢাকা-দিল্লি

রুদ্র রাসেল    ৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৯ এ.এম.
ছবি: সংগৃহীত

পদ্মার পানি নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদি যে চুক্তি ছিলো তা শেষ হবে চলতি বছর ডিসেম্বর মাসে। তাই এ চুক্তি নবায়নের লক্ষ্যে ভারতের কেন্দ্রীয় জল কমিশনের দুজন কর্মকর্তা কয়েকমাস ধরে বাংলাদেশে কাজ করছেন।

আর বাংলাদেশের যৌথ নদী কমিশনের কর্মকর্তারাও বিষয়টি নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। যাতে চুক্তিটি সামনে এগিয়ে নেওয়া যায়। সেই লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই নতুন সরকারের সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে।

সবমিলিয়ে ফের পদ্মার পানির বিষয়ে ১০-১৫ বছরের নতুন চুক্তি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারত।

নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের প্রথম ভারত সফরের আগেই এ প্রকল্পের পেপার ওয়ার্ক এবং অনানুষ্ঠানিক কূটনৈতিক তৎপরতা সম্পন্ন করছেন দুই দেশের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।

পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি অবশ্য জানিয়েছেন, তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ ও ভারতের সাথে পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়ে কারিগরি কমিটি কাজ করছে।

এদিকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্র্বতী সরকারের সময়ে দু'দেশের সরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন কাজে সমস্যা হয়েছিল। কিন্তু যৌথ নদী কমিশনের কার্যক্রম ঠিকঠাক চলেছে।

ফারাক্কায় পানির প্রবাহ নির্ধারণে জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত কাজ করতে হয়। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসেই উভয় দেশের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় বিশেষজ্ঞ কমিটির কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ব্যাপারে একমত হয়। সে সিদ্ধান্তের আলোকে নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফিন যুবায়েদের নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি দল জানুয়ারির শুরু থেকে ফারাক্কার বিভিন্ন পয়েন্টে পানি মাপার কাজ শুরু করে।

ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী শহীদুর রহমানের নেতৃত্বে আরেকটি দল কাজ করছে। এই দলে যৌথ নদী কমিশনের প্রকৌশলীদের মধ্যে আছেন কেএম সাকি ইন্জিল, তৌফিকুল ইসলাম ও মোফাজ্জল হোসেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের পরপর কলকাতা যাবেন প্রকৌশলী রিয়াদুর রহমানের নেতৃত্বে চার সদস্যর দল। এ দলের অন্য সদস্যরা হলেন মাহমুদুল হাসান, মোহাম্মদ নিজামউদ্দিন আর আব্দুল হালিম মোল্লা। যৌথ নদী কমিশনের এই প্রকৌশলী দলের মে মাসের শেষ পর্যন্ত কাজ করার কথা রয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় জল কমিশনের কর্মকর্তা সৌরভ কুমার ও সানি আরোরা জানুয়ারি মাস থেকেই বাংলাদেশে কাজ করছেন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ১৯৫০-এর দশক থেকেই গঙ্গার জলবণ্টন নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। ভারত সরকার তখন পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কায় একটি বাঁধ নির্মাণের প্রস্তাব দেয়। এই ফারাক্কা বাঁধটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ।

১৯৬১ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ১৯৭৫ সালে তা শেষ হয়। ফারাক্কা বাঁধটি গঙ্গা থেকে হুগলি নদীতে পানি প্রবাহিত করতে শুরু করে। একবছর পর, ১৯৭৬ সালে মাওলানা ভাসানী ভারতের পানি নীতির বিরুদ্ধে ‘ফারাক্কা লং মার্চ’-এর নেতৃত্ব দেন। তিনি বাঁধটি ভেঙে ফেলার দাবি জানান। তার যুক্তি ছিল এই বাঁধের ফলেই পদ্মা নদী শুকিয়ে গেছে এবং পরবর্তীতে মরুকরণ ঘটেছে।

এই প্রেক্ষাপটে পরবর্তী এক দশকে দুই দেশের মধ্যে অন্তত তিনটি অস্থায়ী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কিন্তু সেগুলোর কোনোটিই স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি।

অবশেষে, ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবে গৌড়া এবং বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উভয় দেশ পদ্মা পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে (জানুয়ারি থেকে মে) পানি প্রবাহ বণ্টনের জন্য একটি ৩০-বছর মেয়াদী কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা হয়।

চুক্তিটি পর্যবেক্ষণ ও বাস্তবায়নের জন্য গঠন করা হয় একটি যৌথ কমিটি। চুক্তিটি, ১৯৪৯ থেকে ১৯৮৮ সালের মধ্যে ১০ দিনের গড় প্রবাহের ঐতিহাসিক তথ্যের উপর ভিত্তি করে একটি ত্রি-স্তরীয় বণ্টন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে।

এই চুক্তি অনুসারে, যদি পানির প্রবাহ ৭০,০০০ কিউসেক (ঘনফুট প্রতি সেকেন্ড, প্রবাহ পরিমাপের একক) এর নিম্নসীমা পর্যন্ত বা তার নিচে নেমে আসে, তবে উভয় দেশ সমানভাবে পানি ভাগ করে নেবে। যদি পানির প্রবাহ ৭০,০০০ থেকে ৭৫,০০০ কিউসেকের মধ্যে থাকে, তবে বাংলাদেশ ৩৫,০০০ কিউসেক পাওয়ার অধিকারী হবে এবং ভারত অবশিষ্ট প্রবাহ রাখবে।

৭৫,০০০ কিউসেক বা তার বেশি প্রবাহের ক্ষেত্রে, ভারত ৪০,০০০ কিউসেক পাবে। বাকিটা পাবে বাংলাদেশ। চুক্তিটিতে ৩০ বছরের মেয়াদ শেষে পারস্পরিক সম্মতিতে নবায়নের বিধান রয়েছে।

২০২৫ সালে উভয় দেশের যৌথ নদী কমিশন চুক্তি নবায়ন ইস্যুতে একাধিক বৈঠক করে। ভারত তার ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে ১১ মার্চ থেকে ১০ মে সময়কালে অতিরিক্ত ৩০,০০০ থেকে ৩৫,০০০ কিউসেক পানি চেয়েছে। নতুন চুক্তিটি তুলনামূলকভাবে স্বল্প মেয়াদের, অর্থাৎ ১০ থেকে ১৫ বছরের হতে পারে।

জেআরসি-র বৈঠকে বাংলাদেশ ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে ৪০,০০০ কিউসেক পানি ছাড়ার নিশ্চয়তা চেয়েছিল।
ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
আসলে জনকণ্ঠে কী হচ্ছে?
আসলে জনকণ্ঠে কী হচ্ছে?
ইলিয়াস আলী গুমের পেছনে ভারত, নির্দেশ হাসিনার বাস্তবায়নে জিয়াউল
ইলিয়াস আলী গুমের পেছনে ভারত, নির্দেশ হাসিনার বাস্তবায়নে জিয়াউল
দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম মাসে কি করলেন প্রশাসক? জানালেন নিজেই
দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম মাসে কি করলেন প্রশাসক? জানালেন নিজেই