কী পরিমান বিদ্যুৎ বাঁচবে সরকারের বিধি নিষেধে?

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বিত কর্মকৌশল নিয়েছে সরকার। যার উদ্দেশ্য মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার কারণে বিশ্বজুুড়ে জ্বালানি সংকটের প্রভাব থেকে বাঁচতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা।
এ উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যেই সরকার সরকারি ও বেসরকারি অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা, ব্যাংকিং সেবা সকাল ১০টা বিকেল ৩টা পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে পূর্বের নির্ধারিত সময় বদল করে। এছাড়াও আরো কিছু নির্দেশনা জারি করেছে সরকার এিদিন আগে।
এসব নির্দেশনার পর প্রশ্ন উঠেছে- সরকার বিধি নিষেধ দিয়ে এবং অফিস, মার্কেট সময়ে পরিবর্তন এনে কি পরিমান বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে পারছে?
সরকার সংশ্লিষ্টরা হিসাব করে দেখেছেন এই বিধিনিষেধে প্রতিদিন প্রায় ৩১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে এবং এই লক্ষ্যমাত্রাই সরকারের পক্ষ থেকে নির্ধারণ করা হয়েছে বলে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মন্ত্রিসভার চতুর্থ বৈঠকে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছিল। বৈঠকটি জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিদ্যমান সংঘাতে জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার খাতে প্রভাব; পরিস্থিতি মোকাবেলায় গৃহীত কর্মকৌশল (স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি); অর্থায়ন কৌশল সংবলিত অর্থ বিভাগের প্রণীত কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হয়েছে। বিদ্যমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে বিদ্যুৎ বিভাগের প্রণীত সমন্বিত কর্মকৌশলে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা প্রদান, সারের উৎপাদন, মজুদ ও সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিতকরণ এবং শিল্প উৎপাদন ও প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার স্বার্থে শিল্পখাতে প্রয়োজনীয় জ্বালানির জোগান অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অব্যাহত রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
আগামী ৩ মাস দেশব্যাপী সব ধরনের আলোকসজ্জা পরিহার করতে হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, আলোকসজ্জা পরিহারসহ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে গৃহীত কর্মকৌশল বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম গ্রহণ করবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পর্যাপ্তসংখ্যক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।
একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা, ব্যাংকিং সেবা সকাল ১০টা বিকেল ৩টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
জরুরিসেবা ছাড়া সব অফিস ভবন, বিপণিবিতান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টায় বন্ধ করতে হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ভিওড বাংলা/আরআর/আরকেএইচ







