নতুন দল জেডিপির আত্মপ্রকাশ

আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন রাজনৈতিক দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি)। শুক্রবার (০৩ মার্চ) কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারে এক সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ করে নতুন দলটি। একই সঙ্গে দলটির পক্ষ থেকে মাসব্যাপী কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে দলটি আহ্বায়ক কমিটি ঘোষনা করা হয়। নাঈম আহমাদকে আহ্বায়ক ও অ্যাডভোকেট আব্দুল আলিমকে সদস্য সচিব করে ৯০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষনা করে দলটি।
সংবাদ সম্মেলনে নাঈম আহমাদ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে গণপরিষদ গঠন, সংবিধান বাতিল, সংস্কার ও সংশোধন নিয়ে বিতর্ক জোরালো হয়েছে। এমতাবস্থায় জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পাটি (জেডিপি) ১৯৭২ সালের সংবিধান বাতিলের পক্ষে অবস্থান ব্যক্ত করছে।
জেডিপি মনে করে, ১৯৭২ সালের সংবিধান বাতিল করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার আলোকে বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সামাজিক গণতন্ত্রভিত্তিক একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা প্রয়োজন।
গণভোটের রায়ের প্রেক্ষিতে বিএনপি গণপরিষদ গঠনে অনীহা প্রকাশ করলেও সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তাদের ঘোষিত ৩১ দফা এবং জুলাই সনদের যেসব অংশে তারা একমত, সেগুলো বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
জেডিপি মনে করে, বিএনপি তাদের এই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করলে তা জনগণের মধ্যে সংস্কারের আকাঙক্ষা জিইয়ে রাখতে সহায়ক হবে এবং ভবিষ্যতে ১৯৭২ সালের সংবিধান বাতিলের পক্ষে জনমত গঠনে ভূমিকা রাখবে।
তবে বিএনপি সংবিধানের দোহাই দিয়ে গণপরিষদ গঠনের পরিবর্তে যে সংশোধন প্রক্রিয়ার কথা বলছে, তা সাংবিধানিকভাবেই ঝুঁকিপূর্ণ।
বক্তারা আরও বলেন, জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সহযোগীরা গণপরিষদের অধিবেশন আহ্বানের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিলেও জনগণের একটি বড় অংশ তাদের প্রতি আস্থার সংকটে ভুগছে। সাম্প্রতিক সময়ে তারা বিভিন্ন দাবি-যেমন জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজন বা পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি উত্থাপন করলেও পরবর্তীতে সেগুলো থেকে সরে এসেছে।
এই প্রেক্ষাপটে জেডিপি সংবিধানের মূলনীতি থেকে 'সমাজতন্ত্র' বাদ দিয়ে 'সামাজিক গণতন্ত্র' এবং 'বাঙালি জাতীয়তাবাদ'-এর পরিবর্তে 'বাংলাদেশপন্থা' বা 'বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ' প্রতিস্থাপনের লক্ষ্যে জনমত গড়ে তোলা এবং বিদ্যমান সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখবে।
ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ/আ







