হাইওয়ের পাশে টিকিট কাউন্টার থাকবে না: সড়কমন্ত্রী

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে হাইওয়ের পাশে যত্রতত্র বাসের টিকিট কাউন্টার আর থাকবে না। রোববার (২৯ মার্চ) সচিবালয়ে এক সভা শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি এই তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, “হাইওয়ে পুলিশ আরও বেশি তৎপর থাকবে। হাইওয়েতে কোনো অবস্থাতেই যেন অস্থায়ী বাজার বসতে না পারে। আমরা গতবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম ট্রাক, লরি এবং কাভার্ড ভ্যান ঈদের আগে তিন দিন এবং ঈদের পরে তিন দিন রাস্তায় চলবে না। কিন্তু আমরা দেখেছি কিছু ট্রাক এসেছে, যা নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। এর ফলে ঢাকা-যমুনা সেতুতে সামান্য যানজট সৃষ্টি হয়েছিল। তবে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়নি। অন্য হাইওয়েগুলো যেমন ঢাকা-খুলনা, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-বরিশাল, ঢাকা-আরিচা—সেখানে যান চলাচল বেশ সুষ্ঠুভাবে হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “সফিপুর, গাজীপুর, চন্দ্রা—এই এলাকায় কিছু চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। এখন পুলিশ, বিআরটিএ, বাস মালিক ও শ্রমিক সমিতি আরও সমন্বিতভাবে কাজ করবে। আমরা কিছু পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি যা দ্রুত কার্যকর হবে।”
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, “বাস স্ট্যান্ডে থাকা কাউন্টারগুলোতে মালিক সমিতি নির্ধারিত ভাড়া অনুযায়ী যাত্রীদের টিকিট দিতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু যত্রতত্র থাকা অস্থায়ী কাউন্টারে নিয়ন্ত্রণ সব সময় সম্ভব হয়নি। অভিযোগ এলে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে। এবার সিদ্ধান্ত হয়েছে, হাইওয়ের পাশে অস্থায়ী কাউন্টার আর থাকবে না। বাস স্ট্যান্ডে অথবা গন্তব্যস্থলে টিকিট কাটা হবে।”
ফেরিতে যাত্রী ওঠা সম্পর্কেও সতর্কবার্তা দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “ফেরিতে গাড়ি ওঠার সময় শতভাগ যাত্রী নামিয়ে নিশ্চিত করতে হবে। ওখানে ব্যারিয়ার থাকবে। যদিও এটি কৌশলগতভাবে কিছু সমস্যা তৈরি করতে পারে, তবুও নিশ্চিতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এর পাশাপাশি মন্ত্রী জানান, সব গণপরিবহনে জিপিএস সিস্টেম চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “জিপিএস থাকলে নিয়ন্ত্রণ আরও সহজ হবে। স্পিড ও গাড়ির অবস্থান নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। যাত্রী ছাড়া ভাড়া নেওয়া বা ট্রাফিক নিয়ম না মানার মতো কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।”
শেখ রবিউল আলমের এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সড়কপথে যাত্রী সুরক্ষা ও নিয়মিত যান চলাচল নিশ্চিত করার চেষ্টা জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভিওডি বাংলা/এমএস







