পুরনো বন্ধুদের মিলন মেলায় মুখরিত ডাসার ডিকে কলেজ প্রাঙ্গণ

স্মৃতি রোমন্থন, আনন্দ উল্লাস আর হারানো দিনগুলোতে ফিরে যাওয়ার অদম্য আকুলতায় মুখরিত হয়ে উঠল মাদারীপুরের ডাসার ডিকে আইডিয়াল সৈয়দ আতাহার আলী একাডেমি এন্ড কলেজ প্রাঙ্গণ। সোমবার (২৩ মার্চ) ঈদের তৃতীয় দিনে এক বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির এইচএসসি ২০০৮-২০১০ ব্যাচের প্রথম পুনর্মিলনী উৎসব ২০২৬।
সকালে কলেজ প্রাঙ্গণে জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়। এরপর একটি বর্ণাঢ্য র্যালি ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকা প্রদক্ষিণ করে। অনুষ্ঠানে ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তাদের নির্ধারিত টি-শার্ট পরে অংশগ্রহণ করেন, যা পুরো এলাকায় এক রঙিন আমেজ তৈরি করে।
দীর্ঘ বছর পর সহপাঠীদের কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন কলেজের এই সাবেক শিক্ষার্থীরা। এরপর শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান, যেখানে বন্ধুরা একে অপরের সাথে পুরনো দিনের অম্লান স্মৃতি শেয়ার করেন। আড্ডা আর খুনসুটিতে কলেজ প্রাঙ্গণ যেন ফিরে গিয়েছিল সেই ২০০৮-১০ এর সোনালী সময়ে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিকে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাসুদুর রহমান।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করেন অবসরপ্রাপ্ত বাংলা বিভাগের শিক্ষক দিদারুল আলম মুরাদ, বিজনেস স্টাডি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হাওলাদার মো. ইকরাম, প্রভাষক সৈয়দ বাবুল মিয়া, গোলাম নবী এবং রফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ নূরনবী, আরও অনেকেই।
এ সময় বক্তারা বলেন, শিক্ষা জীবনের এই বন্ধন কেবল স্মৃতি নয়, এটি জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য শক্তি। আজকের এই মিলনমেলা প্রমাণ করে যে সময় পাল্টে গেলেও হৃদয়ের টান কখনো ফুরায় না। শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। কর্মব্যস্ত জীবনের মাঝেও নাড়ির টানে ফিরে আসা এবং শিক্ষকদের সম্মান জানানো এটা আসলেই খুব সম্মানের, গর্বের।
সাবেক শিক্ষার্থীরা মঞ্চে এসে তাদের ছাত্রজীবনের মজার সব স্মৃতি শেয়ার করেন। বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানটি ছিল অত্যন্ত আবেগঘন।
দুপুরের প্রীতিভোজের পর শুরু হয় ভিন্নধর্মী সব প্রতিযোগিতা। এর মধ্যে শিক্ষকদের 'হাঁড়ি ভাঙা' খেলা উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে। এছাড়া নারী অতিথিদের জন্য 'বালিশ বদল' খেলা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় লটারি ড্র ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ। আগত শিক্ষার্থীদের, নাচ, গান, এবং কৌতুক পরিবেশন ছিলো চোখে পড়ার মতো।
বিকালের দিকে জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পুরো উৎসবটি এক পূর্ণতা পায়। এবং আমন্ত্রিত ব্যান্ড দলের গান উপস্থিত সবাইকে নাচিয়ে ছাড়ে।
দিনভর আনন্দ-উচ্ছ্বাস শেষে সন্ধ্যায় এক আবেগঘন পরিবেশে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। একে অপরের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার অঙ্গীকার এবং আবার দেখা হওয়ার প্রতিশ্রুতি এবং আগামীতে আরও বড় পরিসরে মিলিত হওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে বন্ধুরা বিদায় নেন।
ভিওডি বাংলা/তুহিন মৃধা/আ







