ঈদ শেষে রাজধানীমুখী মানুষের ঢল

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দঘন ছুটি শেষে আবারও কর্মব্যস্ত জীবনে ফিরতে শুরু করেছেন মানুষ। নাড়ির টানে গ্রামের বাড়িতে কাটানো কয়েকটি দিন শেষে এখন প্রিয়জনদের ছেড়ে চিরচেনা নগর জীবনের ব্যস্ততায় ফিরে আসছেন হাজারো কর্মজীবী মানুষ।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল থেকেই রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে দেখা গেছে ঘরমুখো মানুষের উল্টো স্রোত-এবার শহরমুখী জনস্রোত। বিশেষ করে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় ছিল চোখে পড়ার মতো ভিড়। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রেনযোগে আসা যাত্রীরা পরিবার-পরিজন ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে দলে দলে ঢাকায় ফিরছেন।

স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি ট্রেনেই ছিল উপচে পড়া ভিড়। কেউ পরিবারসহ ফিরছেন, আবার কেউ গ্রামে স্বজনদের রেখে একাই কর্মস্থলে ফিরেছেন। তবে ফিরতি যাত্রার এই চাপে যাত্রীদের ভোগান্তিও কম ছিল না। বেশিরভাগ ট্রেনই নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে পৌঁছায় এবং ছেড়ে যায়, যা যাত্রীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
পঞ্চগড় থেকে ‘একতা এক্সপ্রেস’ ট্রেনে পরিবার নিয়ে ঢাকায় ফেরেন মোজাম্মেল হক মিন্টু। তিনি জানান, তার অফিসে যোগ দেওয়ার কথা ছিল সকালেই, কিন্তু ট্রেন প্রায় এক ঘণ্টা দেরিতে পৌঁছানোয় সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছানো নিয়ে তিনি শঙ্কায় পড়েছেন।
একই ট্রেনের যাত্রী মো. কবির হোসেন বলেন, ট্রেনটি পঞ্চগড় থেকেই দেরিতে ছেড়েছিল, ফলে পুরো যাত্রাপথেই বিলম্ব হয়েছে। স্টেশন থেকে নেমেই তিনি সরাসরি কর্মস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
এদিকে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছায় ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’, যা ছিল যাত্রীতে ঠাসা। ট্রেনটির বিলম্ব নিয়ে অনেক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একইভাবে ১০টা ৩০ মিনিটে ভৈরব থেকে আসা ‘নরসিংদী কমিউটার’ ট্রেনেও ছিল বিপুল যাত্রীর চাপ।
শুধু ঢাকামুখী নয়, এদিন ঢাকাছাড়া যাত্রীদের উপস্থিতিও ছিল লক্ষণীয়। অনেকেই এখনো পরিবারসহ গ্রামের বাড়িতে ঈদ উদযাপনের উদ্দেশ্যে রাজধানী ছাড়ছেন। তবে সকাল থেকে নির্ধারিত সময়ে কোনো ট্রেনই স্টেশন ত্যাগ করতে পারেনি।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ‘রংপুর এক্সপ্রেস’ সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও ছেড়ে যায় প্রায় ৩৫ মিনিট দেরিতে। ‘তিতাস কমিউটার’ নির্ধারিত সময়ের তুলনায় প্রায় ৩০ মিনিট দেরিতে এবং ‘জামালপুর এক্সপ্রেস’ও সময়সূচির পর বেশ দেরিতে স্টেশন ত্যাগ করে।
এদিকে, পঞ্চগড়গামী ‘একতা এক্সপ্রেস’ সকাল পৌনে ১১টার দিকে পুনরায় যাত্রা শুরু করে। এই ট্রেনে পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিলেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মী মনু মিয়া। তিনি জানান, তাদের অফিসে পালাক্রমে ছুটি দেওয়া হয়েছে। সহকর্মীদের কেউ কেউ ইতোমধ্যে কাজে যোগ দিয়েছেন, আর এখন তাদের ছুটি শুরু হওয়ায় পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে গ্রামে যাচ্ছেন তিনি।
ভিওডি বাংলা/জা







