ঈদকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ঊর্ধ্বগতি

সপ্তাহ ব্যবধানে পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ফের রাজধানীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্থিরতার দিকে ধাবিত হয়েছে। বিশেষ করে মাংস, মাছ ও মসলার দাম বেশিভাবে বেড়েছে। তবে সবজির দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। ঈদকে সামনে রেখে ক্রেতাদের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাজারে মূল্যে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে।

মাংস ও পোল্ট্রি
বর্তমানে গরুর মাংস কেজিতে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েকদিনের মধ্যে প্রায় ৮০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিছু দোকানদার একে ১০০০ টাকায় বিক্রি করছেন। খাসির মাংসের দাম কেজিতে ১ হাজার ৩৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, যা ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি।
পোল্ট্রির বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। ব্রয়লার মুরগির দাম ২১০ থেকে ২২০ টাকা কেজি এবং সোনালি মুরগি ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ডিমের দাম কিছুটা কমেছে।

মাছ
মাছের বাজারেও দাম বেড়েছে। পোয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, পাঙাশ ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা এবং রুই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় কেজি দরে। চিংড়ির বাজারেও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে; ছোট গলদা চিংড়ি ১ হাজার টাকা, বড় ১ হাজার ২০০ টাকা। টেংরা মাছ ৭০০ টাকা এবং পাবদা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

মসলা
মসলার বাজারে দাম বেড়েছে সর্বাধিক। কেজি প্রতি এলাচের দাম বৃদ্ধি পেয়ে ৫ হাজার টাকায় পৌঁছেছে, যা কয়েকদিন আগে ২২০ থেকে ২৫০ টাকা কম ছিল। এছাড়া দারুচিনি ৫৮০-৬০০ টাকা, জয়ত্রি ৪ হাজার টাকা, জায়ফল ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লবঙ্গের দাম ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা, জিরা ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, ধনিয়া ৩০০ থেকে ৩৬০ টাকা এবং তেজপাতা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শুকনো ফল

শুকনো ফলের বাজারেও দাম বেড়েছে। কিশমিশ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, আলুবোখারা ১ হাজার ৪০০ টাকা, কাজুবাদাম ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা। কাঠবাদাম ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং পেস্তা বাদাম ৪ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজি ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য
সবজির বাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। বিক্রেতারা গ্রামে যাওয়ার তাড়ায় দ্রুত পণ্য বিক্রি করছেন। পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৪০ টাকা, আলু ১৮ থেকে ২০ টাকা, টমেটো ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। শসার দাম ৩৫ থেকে ৫০ টাকা এবং বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা। কাঁচামরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা, লেবু প্রতি হালি ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সয়াবিন তেলের সরবরাহে ঘাটতি থাকায় খোলা তেলের দাম ২১৫ থেকে ২২০ টাকা লিটারে বেড়েছে। চিনির দামও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে; বিদেশি চিনি ১০০ থেকে ১০৫ টাকা এবং দেশি চিনি ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সেমাই ও চাল
ঈদের অন্যতম প্রধান খাবার সেমাইয়ের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল। ২০০ গ্রাম প্যাকেট সেমাই ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, ৮০০ গ্রাম বোম্বাই সেমাই ২৮০ টাকা এবং খোলা লাচ্ছা সেমাই ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সুগন্ধি চালের দাম কয়েকদিনের মধ্যে বেড়ে গেছে। চিনিগুঁড়া চালের প্যাকেট ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা এবং খোলা চাল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে চালের দামের বৃদ্ধি ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজিতে হয়েছে।
ভিওডি বাংলা/জা







