• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

‎সারিয়াকান্দিতে পূর্ব শত্রুতার জেরে শিক্ষার্থীকে কোপানোর অভিযোগ

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি    ১৯ মার্চ ২০২৬, ০৫:৫৫ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে পূর্ব শত্রুতার জেরে কামরুল হাসান আক্কাস (২৪) নামে এক শিক্ষার্থীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রদলের এক নেতাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে। আহত কামরুল উপজেলার হাটশেরপুর ইউনিয়নের মোজাফফর হোসেনের ছেলে এবং বগুড়ার সরকারি শাহ্ সুলতান কলেজের গণিত বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।

গত সোমবার (১৬ মার্চ) রাতে উপজেলার খোর্দ্দবলাইল বাজারের চারমাথা মোড়ে একটি ছ’মিলের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় গুরুতর আহত কামরুল বর্তমানে সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

‎​আহত কামরুলের পিতা মোজাফফর হোসেন কর্তৃক থানায় দায়ের করা এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলার মূল কারণ হিসেবে ১নং আসামি আসিফ মাহমুদ সৈকতের সাথে আহতের বন্ধুর ছোট ভাইদের দীর্ঘদিনের বিরোধকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই পুরোনো আক্রোশ থেকেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

‎এজাহারের বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীদের সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন (১৬ মার্চ) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে কামরুল ও তার বন্ধুরা খোর্দ্দবলাইল বাজারে অবস্থান করছিলেন। এসময় সারিয়াকান্দি উপজেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আসিফ মাহমুদ সৈকতের নেতৃত্বে মোট ৫ জন চিহ্নিত যুবক এবং আরও ৪-৫ জন অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসী ধারালো চাকু, লোহার রড ও লাঠি সোটা সহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের ঘিরে ফেলে। তারা কামরুল ও তার বন্ধুদের পথরোধ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে।

‎​একপর্যায়ে ১নং আসামি আসিফ মাহমুদ সৈকত অন্যান্য আসামিদের কামরুলকে "মেরে ফেলার" নির্দেশ দেয়। এই নির্দেশ পাওয়া মাত্রই বাকি আাসামিরা কামরুলকে উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকে। এলোপাতাড়ি মারপিটে কামরুল রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হয়ে মাটিয়ে পড়ে যান।

‎​এজাহার মতে, কামরুল মাটিতে পড়ে যাওয়ার পর ১নং আসামি আসিফ মাহমুদ সৈকত হত্যার উদ্দেশ্যে তার হাতে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে কামরুলের মুখে আঘাত করে। এতে তার নাকের বাম পাশ গুরুতর জখম ও রক্তাক্ত হয়। অন্যান্য আসামিরাও কামরুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে জখম সৃষ্টি করে।

‎​কামরুলের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ও সাক্ষীরা এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা "সুযোগমত তাকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে" বলে হুমকি দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে আহত কামরুলকে স্থানীয় লোকজন ও তার পিতা উদ্ধার করে সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

‎এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আহতের পিতা মোজাফফর হোসেন বাদী হয়ে গত ১৭ মার্চ সারিয়াকান্দি থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। তার এজাহারের প্রেক্ষিতে সারিয়াকান্দি থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

‎​মামলার আসামিরা হলেন, হাটশেরপুর ইউনিয়নের খোর্দ্দবলাইল এলাকার আশরাফ আলীর ছেলে ও উপজেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আসিফ মাহমুদ সৈকত (২২), নিজবলাইল এলাকার মৃত জাহিদুল ইসলামের ছেলে সোহাগ মিয়া (২৫), জিল্লুর রহমানের ছেলে সৌমিক (২৪), দিঘাপাড়া এলাকার তাহেরুল ইসলামের ছেলে আনন্দ (১৯), শহিদুল ইসলামের ছেলে আসিফ (২০)। এছাড়া আরও ৪/৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

‎এই নারকীয় হামলার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। রাতের আঁধারে এই ধরণের হামলার ঘটনায় স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এলাকাবাসী এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

‎এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি নজরুল ইসলাম নিশান জানান, ছাত্রদলে কোনো সন্ত্রাসীর স্থান হবে না। দলের ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রাখতে জেলা কমিটির সাথে আলোচনা করে অভিযুক্ত উপজেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আসিফ মাহমুদ সৈকতের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

‎এ ঘটনায় জেলা কমিটির দায়িত্বশীলদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।
‎এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি থানার উপ-পরিদর্শক তপন চন্দ্র রায় জানান, এ ঘটনায় মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ভিওডি বাংলা/মোঃ মনিরুজ্জামান জাহিদ/আ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
পিএ নিয়োগের পরই মোমেন ভূইয়ার বিরুদ্ধে অপপ্রচার
পিএ নিয়োগের পরই মোমেন ভূইয়ার বিরুদ্ধে অপপ্রচার
ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন যুবদল নেতা কামরুল হাসান
ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন যুবদল নেতা কামরুল হাসান