টার্কিশ ডক প্রতারণা
বাংলাদেশের রোগীসহ অনেকে ধোঁকাবাজির শিকার

অনলাইনের মাধ্যমে পরিচিত টার্কিশ ডক নামের একটি প্রতিষ্ঠান কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রলোভনে বাংলাদেশ থেকে তুরস্কে রোগী পাঠিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নিরব নজরুল লিখন। তিনি বলেন, তার মা সহ একাধিক রোগীরা প্রতারণার শিকার হয়েছেন ওই টার্কিশ ডকের।
এই ভুক্তভোগী আরও জানান, প্রথমে তিনি প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে তথ্য পান। তারপর সরাসরি অফিসে গিয়ে ২১,০০০ ডলারের চুক্তি সম্পন্ন করেন। চুক্তি অনুযায়ী তার মায়ের সমস্ত চিকিৎসা খরচ ভিসা, পরীক্ষা, এবং ডায়ালাইসিস-প্রতিষ্ঠানটি বহন করবে কথা দিলেও কিন্তু বাস্তবে তা ভিন্ন রূপ নেয়।
আমার মায়ের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। তার নিয়মিত ডায়ালাইসিস না হলে জীবন হুমকির মুখে, নিরব জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তুরস্কে পৌঁছে প্রতিষ্ঠানটি তার কাছ থেকে জোরপূর্বক অতিরিক্ত অর্থের চাহিদা তুলছে। প্রথম ২১,০০০ ডলারের পর অতিরিক্ত ২৩,০০০ ডলার এবং অন্যান্য ফি দাবি করা হয়েছিল। তবে বাস্তব চিকিৎসা মটেও হয়নি যা প্রতারণার বড় একটি ফাঁদ।
নিরব জানান, প্রতিষ্ঠানটির অফিস সাজানো হয়েছে তুরস্কের অফিস হিসেবে দেখাতে, তুরস্কের পতাকা এবং সিল প্যাড ব্যবহার করে। স্থানীয় এজেন্টরা রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে, কিন্তু বাংলাদেশি অফিস থেকে সহায়তা পাওয়া যায়নি। তুরস্কে পৌঁছার পর তারা বিমানবন্দর ও হাসপাতালের ব্যবস্থার নামে রোগীদের একদিন ধরে অপেক্ষা করায় এবং চিকিৎসা প্রক্রিয়া বিলম্বিত করে।
প্রতারণার মূল ব্যক্তির নাম নুরুজ্জামান রাজু, এবং প্রতিষ্ঠানটির অফিস গুলশান সিলভার টাওয়ারের ১০ম তলায় অবস্থিত। এই ধাঁধাঁলে বাংলাদেশ থেকে প্রেরিত রোগীরা অসহায় হয়ে পড়েছেন এবং তাদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য জরুরি সহায়তা পাননি।
এই প্রতিষ্ঠানটি ধাপে ধাপে রোগী ও তাদের পরিবারের সাথে প্রতারণা করেছে জানিয়ে নিরব আরো অভিযোগ করেন, এ ধরনের ঘটনা সতর্কতার সঙ্গে দেখা না হলে আরও মানুষ অর্থ ও জীবন দুটোই হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
ভিওডি বাংলা/ইসমাইল হোসেন/আ







