বাড়িতে শোকের মাতম
মালদ্বীপে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত বগুড়ার নূরনবী

জীবিকার তাগিদে এক দশক আগে মালদ্বীপে পাড়ি জমিয়েছিলেন বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার নূরনবী সরকার (২৭)। কথা ছিল আগামী কোরবানির ঈদে দীর্ঘ প্রবাস জীবনের ইতি টেনে দেশে ফিরবেন। কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না। গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে প্রাণ হারালেন তিনি।
শুক্রবার ভোরে মালদ্বীপের দিঘুরা দ্বীপে একটি নির্মাণকাজের সাইটের গেস্ট হাউসে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় পাঁচ বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হন। নিহতদের মধ্যে নূরনবী সরকারও রয়েছেন।
নূরনবী শিবগঞ্জ উপজেলার বাদেগাংনই গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে। তার মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে নেমে আসে শোকের ছায়া। বাড়িতে এখন চলছে স্বজনদের আহাজারি।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে নূরনবীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিবেশীরা ভিড় করে শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন। তিন বোনের একমাত্র ভাই নূরনবী ছিলেন পরিবারের একমাত্র ভরসা।
ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে বাবা আব্দুস সামাদ বারবার বিলাপ করে বলছেন, “অন্তত ছেলের মুখটা শেষবারের মতো দেখতে চাই। সরকার যেন দ্রুত আমার ছেলের লাশটা দেশে আনার ব্যবস্থা করে।”
স্বজনরা জানান, ঘটনার দিন সেহরির রান্না করতে গিয়ে গেস্ট হাউসে রাখা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে নূরনবীসহ পাঁচ বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হন এবং আরও দুইজন আহত হন।
অন্য নিহতরা হলেন তাজ উদ্দিন ইসলাম, সদর আলী, রবিন মোল্লা ও সফিকুল ইসলাম। আহতদের মধ্যে রয়েছেন জামাল উদ্দিন ও সাদ্দাম হোসেন।
মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করলেও মৃতদেহ দেশে পাঠানোর বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য না পাওয়ায় উদ্বেগে রয়েছেন স্বজনরা।
নূরনবীর ভাগ্নে মাহবুব বলেন, “মামা ১০ বছরে একবারও দেশে আসেননি। এবার আসার সব কথা ঠিক ছিল। কিন্তু এখন আমরা জানিই না লাশটা কবে দেশে আসবে।”
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান বলেন, মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হলে মৃতদেহ দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভিওডি বাংলা/আ. স. ম. জাকারিয়া/আ







