সিলভার সেলিমকে ছাড় দিলো র্যাব

গুলশান ১ নম্বরের ‘সিলভার টাওয়ার’ নামে যে ভবনের ১০ তলা থেকে কিডনি চক্রের ৫জনকে র্যাব গ্রেপ্তার করেছে সেই বাড়িটি ক্যাসিনোকাণ্ডের আলোচিত চরিত্র বাগেরহাট-২ (সদর ও কচুয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিমের। যিনি সিলভার সেলিম নামে পরিচিত।
টার্কিশ কোম্পানির ওয়েবসাইট নকল করে প্রতারণার মাধ্যমে তুরস্কে কিডনি রোগী পাঠিয়ে বিশাল অংকের অর্থ আত্মসাৎ চক্রকে তার মালিকানাধীন ভবন থেকেই গ্রেপ্তার হয়। কাগজপত্রে বলা আছে, সিলভার সেলিম বাড়িটি অফিস হিসেবে চক্রটিকে ভাড়া দেন। যারা দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়িকে কিডনি কেনাবেচার মতো অবৈধ কর্মকান্ড পরিচালনা করছিল।

প্রশ্ন উঠেছে যে, আইন অনুযায়ী যে বাড়িতে এ ধরনের অপরাধ ঘটে, সেই বাড়ির মালিক বা বাড়ি মালিক পক্ষের উপযুক্ত অংশীদার বা কর্মকর্তা-কর্মচারী সংশ্লিষ্ট মামলার আসামি হয়ে থাকেন। কিন্তু সিলভার সেলিমের বিষয়ে না ঘটায় প্রশ্ন উঠেছে যে, র্যাব কি সিলভার সেলিমকে ছাড় দিলো।?
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী এম এ জলিল উজ্জ্বল ভিওডি বাংলাকে বলেন, এ মামলার আসামি তালিকা থেকে সিলভার সেলিম বা তার পক্ষের কেউ কোনোভাবেই বাদ পড়তে পারেন না। কেননা- তিনি বাড়িটি ভাড়া দিয়েছেন জেনে ও বুঝে একটি চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করে। এরপর দীর্ঘদিন অফিসটি ওই ভবনে যখন চলছে- সে ক্ষেত্রে ওই ফ্ল্যাটটিতে কি হয় তা তার বা বাড়ি দেখভালের কাছে নিযুক্ত তার কর্মকতর্তা কর্মচারীদের অজানা থাকতে পারে না।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিলভার সেলিমের মতো প্রভাবশালী কোনো ব্যক্তির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ইন্ধন বা মতামত না নিয়ে তার বাড়িতে তার অজান্তে অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়ার বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য নয়। পুরনো রেকর্ড অনুযায়ী ক্যাসিনোসহ অনলাইন জুয়া, অনলাইন মানি গেইম, স্ক্যামিংয়ে সিলভার সেলিমের যুক্ত থাকার বিষয়টি অনেকটা প্রকাশ্য।
এদিকে, সিলভার সেলিমের পুরনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডসহ তার অভ্যাস বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, এই কিডনিচক্রে সিলভার সেলিম জড়িত থাকতে পারেন। যুক্তি হিসেবে বলা হচ্ছে- চক্রটি অনলাইন ব্যবহার করে অর্থ হাতাচ্ছিলো। আর সিলভার সেলিমের বিরুদ্ধেও ক্যাসিনো ও স্ক্যামিংয়ের মাধ্যমে টাকা হাতানোর অভিযোগ বেশ পুরোনো।
সিলভার সেলিমকে আসামি না করে কেন ছাড় দিলো র্যাব- জানতে চাইলে র্যাব-৪ এর মিডিয়া অফিসার কে. এন. রায় নিয়তি ভিওডি বাংলাকে বলেন, বিষয়টি তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জানানো হচ্ছে। কেউ অপরাধ করলে র্যাব ছাড় দেবে না।
অন্যদিকে, কিডনিচক্র প্রতারনা যে বাড়িতে বসে করছিল তা সিলভার সেলিমের- এই সত্য ভিওডি বাংলার অনুসন্ধানে উঠে আসার পর এ মামলার আসামির তালিকায় নতুন করে সিলভার সেলিমের নাম যুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একাধিক আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিলভার সেলিমকে আসামি করতে আইনি কোনো প্রতিবন্ধকতা তারা দেখছেন না।
তুরস্কে কিডনি প্রতিস্থাপনের নামে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া একটি চক্রকে রাজধানীর আগারগাঁও ও গুলশান এলাকায় অভিযান চালিয়ে নুরুজ্জামান রাজু (৩৬), বরগুনার মাসুম বিল্লাহ (৪৩), দিনাজপুরের মোহাম্মদ তরিকুল (৩০), দিনাজপুরের সালমান ফারসি (৩৫) ও টাঙ্গাইলের ওয়ালিদ মিয়াকে (২৬) গ্রেপ্তার করে র্যাব।
গুলশানের যে বাড়িতে এই প্রতারণার অফিস ছিল তার মালিক সিলভার সেলিম।

২০২৩ সালে ঢাকার ওই বাড়িতে অফিস নিয়ে ‘টার্কিশডক’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম শুরু করে। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম বন্ধ করে। এরপর বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানটির একজন বিক্রয়কর্মী ‘টার্কিশডক’ ওয়েবসাইট নকল করে ওই নামে শুরু করে অবৈধ উপায়ে কিডনি কেনাবেচার কাজ। রাজু নামের ওই ব্যক্তিও এ অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, সিলভার সেলিম পুরো বিষয়টি জানতেন। তুর্কির ওই প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম বন্ধ করেছে এবং তার বাড়ি ছেড়ে দিয়েছে- তা বাড়ি মালিক হিসেবে তার অজানা থাকার কথা নয়।
এ বিষয়ে বক্তব্য পেতে সিলভার সেলিমকে ফোনকল এবং হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠালেও সাড়া দেননি।
ক্যাসিনোকাণ্ডে আলোচিত সিলভার সেলিম ২০০৩ সালের ৩ জুন নির্মাণাধীন ভবন মালিকের কাছ থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন।
ভিওডি বাংলা/ইসমাইল হোসেন







