• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

বিশ্ব ঘুম দিবস আজ

লাইফস্টাইল    ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৫:৪৫ পি.এম.
বিশ্ব ঘুম দিবসে বিশেষজ্ঞরা ঘুমের গুরুত্ব ও সঠিক ঘুমের অভ্যাস বজায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন-ছবি: সংগৃহীত

আজ বিশ্ব ঘুম দিবস। প্রতি বছরের মার্চ মাসের তৃতীয় শুক্রবারে পৃথিবীজুড়ে পালিত হয় এই দিবস। বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মানুষকে ঘুমের গুরুত্ব ও ঘুমের অভাবে সৃষ্ট শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির বিষয়ে সচেতন করা হয়।
 
২০০৮ সালে প্রথমবার দিবসটি পালন করে ‘ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব স্লিপ মেডিসিনের’ ‘ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব স্লিপ মেডিসিনের’ ওয়ার্ল্ড স্লিপ ডে কমিটি। কমিটির মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের মধ্যে ঘুমের অভাবে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

এ বছর বিশ্ব ঘুম দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে “ভালো ঘুমাও, ভালোভাবে বাঁচো”। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই দিবস উদযাপন উপলক্ষে সেমিনার, কর্মশালা ও অনলাইন সচেতনতামূলক কার্যক্রম আয়োজন করা হচ্ছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, পূর্ণবয়স্ক মানুষের দুই-তৃতীয়াংশই সঠিকভাবে ঘুম পান না। খাদ্য, পানি, আবাসন যেমন মানুষের জীবনের অপরিহার্য উপাদান, ঠিক তেমনি ঘুমও আমাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে প্রায় ৭৮–৭৯ ধরনের স্লিপ ডিসঅর্ডার শনাক্ত করা হয়েছে।

ঘুমের অভাবে পরের দিন সারা দিনের কার্যক্ষমতা কমে যায়। দীর্ঘমেয়াদি কম ঘুমের কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়, শিশুদের স্মৃতি ও শিক্ষণ ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এবং বড়রা হৃদয়, স্নায়ু সংক্রান্ত সমস্যা, ডায়াবেটিস, ওবেসিটি ও অ্যালঝেইমারের ঝুঁকিতে পড়েন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই সমস্যাকে একটি এপিডেমিক ঘোষণা করেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। তাই বিশেষজ্ঞরা সবাইকে স্লিপ হাইজিন মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন। ঘুমের জন্য মেলাটোনিন হরমোনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এটি বৃদ্ধি করার জন্য বিকেলের রোদে শরীরকে কিছুক্ষণ এক্সপোজ করা উচিত। এছাড়া ঘুমের আগে চা-কফি পরিহার, প্রয়োজনে গোসল, এবং বিছানায় শুধুমাত্র ঘুমানোর অভ্যাস খুবই কার্যকর।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, “মোবাইল বা ল্যাপটপের চার্জ যেমন ফুরিয়ে গেলে চার্জ দিতে হয়, ঠিক তেমনি আমাদের মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রও সঠিকভাবে ‘রিচার্জ’ করতে হবে। আমাদের প্রতিটি ব্যক্তির নিজস্ব শারীরিক ছন্দ আছে। সেই অনুযায়ী ঘুমানো দরকার।”

কেউ রাতে বেশি জাগে, দিনে কম ঘুমায়; কেউ আবার বিপরীত। তাই দৈনন্দিন জীবনের চাপ ও প্রয়োজন অনুযায়ী ঘুমের পরিমাণ ঠিক করা উচিত। সঠিক ঘুম নিশ্চিত করতে হলে জেগে থাকার সময়কেও সঠিকভাবে কাজে লাগানো গুরুত্বপূর্ণ।

কম ঘুমের ফলে হাইপারটেনশন, পেটের সমস্যা ও অন্যান্য জটিল রোগ শরীরে বাসা বাঁধতে পারে। ঘুমের গুরুত্ব আমরা সবসময় অনুভব করি না, ঠিক তেমনই এই দিবস পালন করেও তা মনে করিয়ে দেওয়া হয়। প্রতি বছর সূর্যের দক্ষিণায়নের আগের শুক্রবার বিশ্ব ঘুম দিবস উদযাপিত হয়।

ভিওডি বাংলা/জা
 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
সেহরিতে একসঙ্গে বেশি পানি পান কি ঠিক?
সেহরিতে একসঙ্গে বেশি পানি পান কি ঠিক?
ইফতারে রাখতে পারেন যেসব পানীয়
ইফতারে রাখতে পারেন যেসব পানীয়
রোজার সময় সুস্থ থাকতে খাদ্যাভ্যাস কেমন হবে
রোজার সময় সুস্থ থাকতে খাদ্যাভ্যাস কেমন হবে