• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

কর্মক্ষেত্রে জোরপূর্বক শ্রম

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্র

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৫:০৩ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

পণ্য উৎপাদন চাকরি বা কর্মক্ষেত্রে জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পদক্ষেপ কতটা যথেষ্ট তা তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র।  

তদন্ত শুরু হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক পরামর্শের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ইতিমধ্যে তালিকাভুক্ত দেশের সরকারগুলোর কাছে আলোচনার অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। এ তদন্তের শুনানি ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মতামত দিতে চায় বা শুনানিতে অংশগ্রহণ করতে চায় বা সাক্ষ্যের সারসংক্ষেপ জমা দিতে চায়, তাদের ১৫ এপ্রিলের মধ্যে লিখিত মতামত ও আবেদন জমা দিতে হবে। 

দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর) বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানায়।

এর আগে গত বুধবার উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা ও অতিরিক্ত উৎপাদন করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৬টি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে দেশটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১(বি) ধারা অনুযায়ী নতুন এ তদন্ত করা হবে। এতে দেখা হবে, পণ্য উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রমের ব্যবহার থাকলে সেই পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইন, নীতি ও বাস্তব প্রয়োগ কতটা যুক্তিযুক্ত বা বৈষম্যমূলক। একই সঙ্গে যাচাই করা হবে, এসব নীতি বা অনুশীলন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের ওপর কোনো ধরনের বোঝা বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে কি না।

‘জোরপূর্বক শ্রমের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ঐকমত্য থাকা সত্ত্বেও সরকারগুলো তাদের বাজারে জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সেগুলো কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হয়েছে।’

বিজ্ঞপ্তিতে জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, ‘এ তদন্তের মাধ্যমে আমরা নির্ধারণ করব, বিদেশি সরকারগুলো জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছে কি না এবং এসব অনৈতিক চর্চা মার্কিন শ্রমিক ও ব্যবসার ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে।’

যেসব দেশের বিরুদ্ধের এ তদন্ত হবে, সেই দেশগুলো হচ্ছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, বাহামা, বাহরাইন, বাংলাদেশ, ব্রাজিল, কম্বোডিয়া, কানাডা, চিলি, চীন, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, ডমিনিকান প্রজাতন্ত্র, ইকুয়েডর, মিসর, এল সালভাদর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), গুয়াতেমালা, গায়ানা, হন্ডুরাস, হংকং (চীন), ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরাক, ইসরায়েল, জাপান, জর্ডান, কাজাখস্তান, কুয়েত, লিবিয়া, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, মরক্কো, নিউজিল্যান্ড, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, নরওয়ে, ওমান, পাকিস্তান, পেরু, ফিলিপাইন, কাতার, রাশিয়া, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা, সুইজারল্যান্ড, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), যুক্তরাজ্য, উরুগুয়ে, ভেনেজুয়েলা এবং ভিয়েতনাম।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৩০১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কোনো বিদেশি সরকারের নীতি বা কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের জন্য অযৌক্তিক বা বৈষম্যমূলক হলে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিক্রিয়ামূলক ব্যবস্থা নিতে পারে। বাণিজ্য আইনের ৩০২(বি) ধারায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর ৩০১ ধারা বলে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এ ধরনের তদন্ত শুরু করতে পারে। সেকশন ৩০১ কমিটির পরামর্শ ও সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা কমিটিগুলোর সঙ্গে পরামর্শের পর যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি এ তদন্ত শুরু করেছেন।

ভিওডি বাংলা/আরআর

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
মির্জা আব্বাসকে দেখতে এভারকেয়ারে প্রধানমন্ত্রী
মির্জা আব্বাসকে দেখতে এভারকেয়ারে প্রধানমন্ত্রী
মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
প্রথম দিন ওয়াকআউট না করলেও পারত বিরোধী দল: স্পিকার
প্রথম দিন ওয়াকআউট না করলেও পারত বিরোধী দল: স্পিকার