যুক্তরাজ্য শিশুদের সুরক্ষায় সোশ্যাল মিডিয়ায় কঠোর নিয়ম চালু করছে

যুক্তরাজ্য শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করার জন্য বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কঠোর নিয়ম আরোপের প্রস্তুতি নিয়েছে। দেশটির নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং তথ্য সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে যে, অনেক প্ল্যাটফর্মই তাদের ন্যূনতম নির্ধারিত বয়সসীমা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
গণমাধ্যম ও টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম এবং তথ্য সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ ইনফরমেশন কমিশনারস অফিস বৃহস্পতিবার বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোকে সতর্ক করেছে। তারা জানিয়েছে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ক্ষতিকর বা আসক্তিমূলক কনটেন্টের ঝুঁকি কমাতে এখন আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য।
এই উদ্যোগটি যুক্তরাজ্যের নতুন অনলাইন সেফটি অ্যাক্ট বাস্তবায়নের অংশ। আইনের অধীনে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অফকম জানিয়েছে, মেটার ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রাম, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট, রোবলক্স এবং ইউটিউবকে আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে তাদের বয়স যাচাই প্রক্রিয়া কিভাবে আরও শক্তিশালী করবে তা রিপোর্ট করতে হবে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো শিশুদের সঙ্গে অপরিচিত ব্যক্তিদের যোগাযোগ সীমিত করা, নিউজফিডকে নিরাপদ করা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর নতুন পণ্য পরীক্ষার কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। অফকমের প্রধান নির্বাহী বলেন, “এই অনলাইন সেবা প্রায় প্রতিটি পরিবারের কাছে পরিচিত, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের নিরাপত্তা পণ্যের মূল কেন্দ্রে নেই। এই পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন করতে হবে, না হলে আমরা বাধ্য হব যথাযথ পদক্ষেপ নিতে।”
তথ্য সুরক্ষা কর্তৃপক্ষও একই ধরনের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির প্রধান পল আর্নোল্ড বলেছেন, “এখন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কার্যকর বয়স যাচাই সম্ভব। তাই প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়।”
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, তারা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছে। মেটার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বয়স শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে এবং কিশোর ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। ইউটিউব জানিয়েছে, ব্যবহারকারীদের বয়স অনুযায়ী ভিন্ন অভিজ্ঞতা প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
আইনের ভঙ্গ হলে অফকম কোম্পানিগুলোর বৈশ্বিক আয়ের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করতে পারবে। একই সঙ্গে তথ্য সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ বার্ষিক বৈশ্বিক আয়ের সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করতে সক্ষম।
ভিওডি বাংলা/জা







