• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

ইরান:

হরমুজ প্রণালী দিয়ে এক লিটার তেলও যাবে না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫৫ এ.এম.
পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী-ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে ইরান। পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্ববাজারে এক লিটার তেলও যেতে দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

ইরানের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই প্রণালীকে ঘিরে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)–এর খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল কিংবা তাদের মিত্রদের সঙ্গে সম্পৃক্ত যেকোনো জাহাজ এখন থেকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচিত হবে।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, কৃত্রিমভাবে তেলের দাম কমিয়ে রাখা সম্ভব নয়। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরই জ্বালানি বাজার নির্ভরশীল, আর মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদেরই দায়ী বলে দাবি করে ইরান।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাত এখনো সমাধানের কোনো পথে পৌঁছায়নি। চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক তেলবাজারে দামের ওঠানামা আরও অস্থির হয়ে উঠেছে।

বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই জলপথ বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

বুধবার (১১ মার্চ) ওমান উপকূলের কাছে একটি থাই পতাকাবাহী কার্গো জাহাজসহ মোট তিনটি জাহাজে হামলার খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক শিপিং ও জ্বালানি খাতে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাহাজগুলোকে এই প্রণালী দিয়ে চলাচল অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জাহাজগুলোর যাওয়া উচিত। খুব দ্রুতই সেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

এদিকে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচা সতর্ক করে বলেছেন, এই অচলাবস্থার কারণে সাব-সাহারান আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে জরুরি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে। মানবিক সহায়তাবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

বৈশ্বিক বাজার স্থিতিশীল রাখতে শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করছে। কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক  ক্রিশ্চিয়ান বুয়েগার বলেন, হরমুজ প্রণালী দ্রুত চালু না হলে ইউরোপ ভয়াবহ জ্বালানি সংকটে পড়তে পারে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা তাদের ৩২টি সদস্য দেশের জরুরি মজুত থেকে একযোগে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল বলেন, বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে হরমুজ প্রণালী স্বাভাবিকভাবে চালু না হওয়া পর্যন্ত সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

এর পাশাপাশি জার্মানি, অস্ট্রিয়া এবং জাপানও তাদের জাতীয় মজুত থেকে তেল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানিয়েছেন, দেশটির প্রায় ৭০ শতাংশ তেলই হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। তাই আগামী সোমবার থেকেই তারা জাতীয় মজুত থেকে তেল বাজারে ছাড়তে শুরু করবে।

সূত্র : আল-জাজিরা

ভিওডি বাংলা/জা

 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
বুধবার ভোর থেকে লেবানন জুড়ে ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৩৪
বুধবার ভোর থেকে লেবানন জুড়ে ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৩৪
হামলা অব্যাহত থাকলে মধ্যস্থতা করা সম্ভব নয়: কাতার
হামলা অব্যাহত থাকলে মধ্যস্থতা করা সম্ভব নয়: কাতার
ইরান-সমর্থিত ইরাকি গোষ্ঠীর হামলায় ১৩ মার্কিন সেনা নিহত
ইরান-সমর্থিত ইরাকি গোষ্ঠীর হামলায় ১৩ মার্কিন সেনা নিহত