পরিবেশ ও জলবায়ু সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ–চীন বৈঠক

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
বুধবার (১১ মার্চ) আগারগাঁওয়ে বন অধিদপ্তরের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে পরিবেশ সংরক্ষণ, বন ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও চীনের পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে সবুজ উন্নয়ন, প্রযুক্তি বিনিময়, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পরিবেশমন্ত্রী বাংলাদেশে বায়ু, পানি ও শব্দদূষণ কমাতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন এবং জলবায়ু সহনশীল উন্নয়নে চীনের অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন।
আলোচনার সময় মন্ত্রী সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, পরিবার কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা সুদমুক্ত ঋণ, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন এবং নারীর ক্ষমতায়নের মতো কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে, যা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি বছর পাঁচ কোটি করে গাছ লাগানো হবে। তিনি আরও জানান, আগামী ১৫ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে পাওয়া পরামর্শের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করবে এবং মে মাস থেকে দেশব্যাপী এ কর্মসূচি শুরু হবে।
চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশের পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়নে চীনের অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়নের আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দলের বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানান।
তিনি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বায়ুদূষণ কমাতে চীনের পক্ষ থেকে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেন।
সাভারে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূতের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ জানান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আমিনবাজার বর্জ্যভূমি সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ প্রকল্পের মাধ্যমে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে চীনের সাফল্য বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য। এ খাতে দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তি বিনিময় ও সহযোগিতা আরও জোরদারের সুযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন, এ সৌজন্য সাক্ষাৎ বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও গভীর ও কার্যকর করতে সহায়ক হবে।
ভিওডি বাংলা/আ







