ভোগান্তিতে কৃষক ও যানবাহন চালক
রাজারহাটে জ্বালানি সংকটে দু’টি পেট্রোল পাম্প বন্ধ

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ না থাকায় উপজেলার দু’টি পেট্রোল পাম্প সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে তেল না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষক, যানবাহন চালক এবং সাধারণ মানুষ। অপরদিকে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ব্যবসায়ীরা ডিজেল, পেট্রোল বিক্রি করছে না বলে গ্রাহকরা অভিযোগ করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ডিজেল ও পেট্রোল সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। সরবরাহ বন্ধ থাকায় পাম্পগুলোতে জ্বালানি বিক্রি কার্যত বন্ধ রয়েছে। এতে তেল নিতে এসে অনেক গ্রাহকই খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।
এ সংকটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বর্তমানে কৃষি মৌসুম চলমান থাকায় অনেক কৃষক সেচের জন্য শ্যালো ইঞ্জিন ও অন্যান্য সেচযন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু প্রয়োজনীয় ডিজেল না পাওয়ায় সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, পেট্রোলচালিত সিএনজি, বাস ও ট্রাক চালকরাও তেল সংকটে দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক চালক বাধ্য হয়ে দূরের উপজেলা বা জেলা শহরে গিয়ে জ্বালানি সংগ্রহ করছেন। এতে সময়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত খরচও বেড়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় কয়েকজন চালক ও ভুক্তভোগী জানান, হঠাৎ করেই জ্বালানি তেলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা চরম সমস্যার মুখে পড়েছেন। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিবহন চলাচল ও কৃষি কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
এ বিষয়ে একরাম ফিলিং স্টেশনের মালিক সাদেকুল হক নুরু এবং মেসার্স অদ্বিতা সুধী কানন ফিলিং স্টেশনের মালিক বুলু সরকার জানান, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেঘনা পেট্রোলিয়াম ডিপো থেকে জ্বালানি তেল না আসায় পাম্প দুটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবে নতুন করে তেল সরবরাহ পেলেই পুনরায় বিক্রি শুরু করা হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুন্নাহার সাথী বলেন, “তেল সংকটের কারণে উপজেলার দুটি পেট্রোল পাম্পই বন্ধ রয়েছে। তবে কৃষকদের জন্য অল্প কিছু ডিজেল সংরক্ষণ করা হয়েছে, যা সীমিত পরিসরে বিক্রি করা হচ্ছে। দুই-একদিনের মধ্যে নতুন করে জ্বালানি সরবরাহ এলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।”
এ বিষয়ে বুধবার (১১ মার্চ) রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল ইমরান বলেন, “জ্বালানি সংকটের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন স্ট্রিক মনিটরিং রয়েছে। কেউ দূর্নীতি করার চেষ্টা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
এদিকে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন উপজেলার বাসিন্দারা।#
ভিওডি বাংলা/প্রহলাদ মন্ডল সৈকত/আ







