যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির বিদ্যুৎ বিলে সাশ্রয় আনছে ‘ব্যালকনি সোলার’

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলেতে বাস করা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অ্যাগনেস চ্যানের ঘরে প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যাওয়ায় তিনি চিন্তিত ছিলেন। ছাদে বড় সোলার সিস্টেম বসাতে ২০ হাজার ডলারের বেশি খরচ দেখে তিনি পিছিয়ে আসেন। তার বদলে তিনি বেছে নেন ‘প্লাগ-ইন সোলার’ বা ‘ব্যালকনি সোলার’। মাত্র ২ হাজার ডলারে কেনা এই ছোট সোলার প্যানেলটি তিনি সাধারণ আউটলেটে প্লাগ করে ব্যবহার করছেন। এতে তার মাসিক বিদ্যুৎ বিল প্রায় ৫০ ডলার কমেছে।
অ্যাগনেস চ্যানের মতো যুক্তরাষ্ট্রের হাজার হাজার মানুষ এখন এই সাশ্রয়ী প্রযুক্তির দিকে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। প্লাগ-ইন সোলার হলো এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে ছোট সোলার প্যানেলগুলো ব্যালকনি বা ছাদে স্থাপন করে একটি মাইক্রো-ইনভার্টারের মাধ্যমে সরাসরি ঘরের বিদ্যুৎ সরবরাহের সঙ্গে সংযুক্ত করা যায়। এটির জন্য কোনো পেশাদার ইলেকট্রিশিয়ানের সাহায্যের প্রয়োজন হয় না।
জার্মানি এই প্রযুক্তির পথিকৃৎ। দেশটিতে প্রায় ১২ লাখের বেশি সিস্টেম নিবন্ধিত রয়েছে, যদিও অনানুষ্ঠানিকভাবে সংখ্যা ৪০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমন জনপ্রিয়তার কারণে ফার্নিচার শপ আইকিয়াতেও এখন সোলার প্যানেল কেনা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রে এটি আগে আইনি জটিলতায় পড়ে থাকলেও বর্তমানে অন্তত ২৮টি রাজ্য, যেমন উটাহ, এই প্রযুক্তিকে সহজ ও বৈধ করতে আইন প্রণয়ন করছে। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপত্তার কারণে বিরোধিতা করছে। তাদের মত, ঘরের সার্কিটে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে এবং গ্রিড কর্মীদের জন্য ঝুঁকি বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এবং জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিজেদের বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রবণতা বেড়েছে। রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে, বিদ্যুৎ বিল কমানো এবং সরকারী হস্তক্ষেপ ছাড়া জ্বালানি ব্যবস্থার কারণে প্লাগ-ইন সোলার এখন যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিপ্লবে পরিণত হয়েছে।
ভিওডি বাংলা/জা







