দুই-তৃতীয়াংশ শেয়ারের দাম বাড়লেও ডিএসই সূচকে পতন

চলতি সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস দেশের শেয়ারবাজারে সূচকের পতনের কারণে নেতিবাচক মনোভাব বিরাজ করছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রথম ঘণ্টার লেনদেনে অংশ নেওয়া শেয়ার ও ইউনিটগুলোর মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের দাম বাড়লেও প্রধান সূচকগুলোতে পতন লক্ষ্য করা গেছে। এক্ষেত্রে লেনদেনের পরিমাণও আগের দিনের তুলনায় কম ছিল।
বুধবার (৪ মার্চ) বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দিনের শুরুতে অধিকাংশ শেয়ার ও ইউনিটের দাম নিম্নমুখী ছিল। তবে মাত্র ১৫ মিনিট পর ধীরে ধীরে দাম বাড়ার তালিকায় বেশিরভাগ সিকিউরিটিজ উঠে আসে। এরপরও বাজারের সূচক সমূহে পতন অব্যাহত থাকে। বেলা ১১টা পর্যন্ত ডিএসইর লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৮৫টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ২৪১টির দাম বেড়েছে, ৭৩টির দাম কমেছে এবং ৭১টি শেয়ার ও ইউনিটের দাম অপরিবর্তিত ছিল।

প্রথম ঘণ্টার লেনদেনে দাম বাড়ার সত্ত্বেও ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৮ পয়েন্ট কমে ৫,৩১৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অন্য দুটি সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট কমে ১,০৬২ পয়েন্টে, আর বাছাই করা ৩০ কোম্পানির ওপর ভিত্তি করে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ১০ পয়েন্ট কমে ২,০৪০ পয়েন্টে নেমেছে।
বাজারে সবকটি মূল্যসূচকে পতনের পাশাপাশি ক্রেতার উপস্থিতি কম লক্ষ্য করা গেছে। প্রথম ঘণ্টায় ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২১২ কোটি ৮৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট, যা গতকাল রোববারের ৩০৯ কোটি ৭১ লাখ টাকার লেনদেনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
গতকাল, রোববার, ডিএসইতে সার্বিক মূল্যসূচক ডিএসইএক্স একদিনেই ২০৯ পয়েন্ট কমে যায়। অন্যান্য সূচকেও বড় ধরনের পতন ঘটে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শেয়ারবাজারে এই ধরনের পতনের পেছনে বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক কারণ থাকতে পারে। বাজারে ক্রেতার কম উপস্থিতি এবং মিশ্র মানসিকতার কারণে সূচকগুলো দাম বাড়ার সত্ত্বেও নেমে আসছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য এখন বাজার পর্যবেক্ষণ ও সতর্কতা অবলম্বন করা গুরুত্বপূর্ণ।
ডিএসইর লেনদেনের ঘাটতি এবং সূচক পতন বাজারে বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী দিনগুলোতে যদি লেনদেন বৃদ্ধি পায় এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসে, তাহলে সূচকগুলো পুনরায় স্থিতিশীল হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, দেশের শেয়ারবাজারে দাম বাড়ার সত্ত্বেও সূচক পতন, লেনদেনের হ্রাস এবং ক্রেতার কম উপস্থিতি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিনিয়োগকারীদের এখন সাবধানতা অবলম্বন ও বাজার পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
ভিওডি বাংলা/জা







