• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

উত্তর সিটির অর্থনৈতিক বেহাল দশা:

৩৪ ফাইলে সাইন করে গেছে প্রশাসক এজাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৩ মার্চ ২০২৬, ০৩:১৩ পি.এম.
সচিবালয় থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন-ছবি: সংগৃহীত

উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আর্থিক অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)-এর নবনিযুক্ত প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। তিনি বলেন, সংস্থাটিতে এখন কার্যত ভঙ্গুর পরিস্থিতি বিরাজ করছে-ফান্ড নেই, অথচ বিপুল অঙ্কের টেন্ডার অনুমোদন দিয়ে ওয়ার্ক অর্ডার জারি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে সচিবালয় থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা জানান।

প্রশাসক মিল্টন বলেন, সাবেক প্রশাসক এজাজ জাতীয় নির্বাচনের দু’দিন আগে, ১০ ফেব্রুয়ারি শেষ কর্মদিবসে ৩৪টি ফাইলে সই করে যান। এসব ফাইলের বিপরীতে বিল পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অথচ বর্তমানে সিটির কোষাগারে রয়েছে মাত্র ২৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে প্রায় ১৪৭০ কোটি টাকার টেন্ডার দিয়ে ওয়ার্ক অর্ডারও ইস্যু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “এ অবস্থায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড কীভাবে পরিচালিত হবে, সেটি বড় প্রশ্ন। আয়-ব্যয়ের হিসাব পর্যালোচনা করে রাজস্ব বিভাগের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, প্রতি মাসে স্যালারি বাবদ প্রায় ১৩ কোটি টাকা প্রয়োজন হয়। হাতে যদি থাকে ১২ কোটি বা তার কম, তাহলে চলমান ব্যয় মেটাতেই হিমশিম খেতে হবে। উন্নয়ন কাজের জন্য অর্থের সংস্থান কোথা থেকে হবে, সেটি নিয়ে আমরা কাজ করছি।”

তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে এবং তিনি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। “আমরা হতাশ নই। জনকল্যাণে যতটুকু সেবা দেওয়া প্রয়োজন, সেটি নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো,” বলেন তিনি।

নতুন দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র সাতদিন হয়েছে উল্লেখ করে মিল্টন সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, “আমাদের কাজ সহজভাবে সম্পন্ন করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মধ্য দিয়ে এগোতে চাই।”

খাল খনন ও দখল উচ্ছেদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডিএনসিসির আওতায় উল্লেখযোগ্য ২৯টি খাল রয়েছে। এসব খালে পুনরায় বর্জ্য অপসারণ ও খনন কার্যক্রম শুরু করা হবে। যেসব স্থানে নাব্যতা কমে গেছে, সেখানে এস্কেভেটরের মাধ্যমে খনন করে পানিপ্রবাহ সচল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, অতীতে খাল ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত মনিটরিংয়ের ঘাটতি ছিল-এমন অভিযোগ রয়েছে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখা হবে। নিয়মিত তদারকি ও রুটিনভিত্তিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতির সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, খাল খনন ও পানি প্রবাহ সচল রাখা না গেলে বর্ষা মৌসুমে মশাবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে। তাই আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে খাল সংস্কার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জোর দেওয়া হচ্ছে।

খাল দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি জানান, ঈদের পর উচ্ছেদ অভিযান শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইন ও পরিবেশ সংস্থার মাধ্যমে নোটিশ প্রদান করে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

তবে নিম্নআয়ের ও ছিন্নমূল মানুষদের ক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণের কথা জানান তিনি। মিল্টন বলেন, “আলোচনার ভিত্তিতে তাদের বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা করা যায় কি না, কিংবা ক্ষতিপূরণের কোনো উপায় বের করা যায় কি না-সেটি বিবেচনা করা হবে। আমরা চাই, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানবিক সমাধানও নিশ্চিত করতে।”

সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ডিএনসিসির আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, চলমান প্রকল্প পুনর্মূল্যায়ন এবং রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রশাসক। তিনি বলেন, সীমিত সম্পদ নিয়েই নাগরিক সেবা সচল রাখতে হবে। এজন্য ব্যয়ের অগ্রাধিকার নির্ধারণ, অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো এবং রাজস্ব আদায়ে কঠোরতা আরোপের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

সবশেষে তিনি বলেন, “আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ অনেক। তবে সমন্বিত উদ্যোগ ও সবার সহযোগিতায় আমরা পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম হবো।”

ভিওডি বাংলা/জা
 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে ডিএমপির নিরাপত্তা বিষয়ক সমন্বয় সভা
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে ডিএমপির নিরাপত্তা বিষয়ক সমন্বয় সভা
আ’লীগ ও গণতন্ত্র কখনো একসঙ্গে যায়নি: ফখরুল
আ’লীগ ও গণতন্ত্র কখনো একসঙ্গে যায়নি: ফখরুল
একনেকে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্প অনুমোদন, ব্যয় ৭ হাজার কোটি
একনেকে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্প অনুমোদন, ব্যয় ৭ হাজার কোটি