ইরানের প্রেসিডেন্ট
খামেনিকে হত্যা মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যা হচ্ছে “মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা।” রোববার (১ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন এবং এ হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার জানান।
পেজেশকিয়ান বলেন, “ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ এবং বিশ্বজুড়ে শিয়া সম্প্রদায়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে এভাবে হত্যা করা হচ্ছে… এটি বিশ্বের সব প্রান্তের মুসলিম, বিশেষ করে শিয়াদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধের ঘোষণা হিসেবে গণ্য হবে।”
তিনি আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় সর্বোচ্চ নেতা খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অধিকার এবং কর্তব্য।”
যেভাবে হত্যা করা হয় খামেনিকে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে শনিবার ভোরে তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। মার্কিন সিআইএ এবং ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে উচ্চমাত্রার গোপন বৈঠকের সময় এই অভিযান সম্পন্ন করা হয়।
অভিযানটি সম্পূর্ণ গোপনীয় কক্ষে করা হয়, যা ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রস্তুত না থাকার কারণে কার্যকর হয়। মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে খামেনিকে লক্ষ্য করা হয়, কারণ সম্ভব হলে তিনি আত্মগোপনে চলে যেতে পারতেন।
হামলার কিছুক্ষণ আগে খামেনি প্রতিরক্ষা পরিষদের সেক্রেটারি আলী শামখানি এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলী লারিজানির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।
ইসরায়েলি সময় ভোর ৬টায় শুরু হওয়া অভিযানে ইসরায়েলের এবং যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান তেহরানে পৌঁছাতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় নেয়। সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে খামেনির নিরাপত্তাবেষ্টিত ভবনে ৩০টি বোমা ফেলে ধ্বংস করা হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, মার্কিন ট্র্যাকিং সিস্টেম খামেনির অবস্থান শনাক্ত করেছিল এবং এই হামলায় তার সঙ্গে অন্যান্য ইরানি নেতারাও নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সূত্র জানায়, খামেনির সঙ্গে আলী শামখানি এবং আইআরজিসির কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুরসহ আরও কয়েকজন সামরিক ও রাজনৈতিক নেতা নিহত হয়েছেন।
সূত্র: এএফপি







