পাকিস্তান-আফগানিস্তানের সংঘাত বন্ধে মধ্যস্থতা করতে চায় ইরান

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান সীমান্ত সংঘাত শেষ করতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি দুই দেশকে সংলাপে বসে নিজেদের দ্বন্দ্ব মীমাংসার আহ্বানও জানিয়েছেন।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা বার্তায় আরাগচি বলেন, “পবিত্র রমজান মাস আত্মসংযম এবং ইসলামি বিশ্বের সংহতিকে শক্তিশালী করার মাস। আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের মধ্যে যেসব বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব-মতপার্থক্য আছে, আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে সেসব মীমাংসার জন্য খুবই উপযুক্ত এই রমজান মাস।”
তিনি আরও বলেন, “পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান উভয়ই আমাদের প্রতিবেশী এবং আমরা আশা করছি যে আলোচনা এবং সহযোগিতামূলক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে দুই দেশে তাদের পার্থক্য দূর হবে। ইসলামি প্রজাতন্ত্রী ইরান মধ্যস্থতা এবং যে কোনো প্রকার সহযোগিতায় প্রস্তুত।”
আরাগচি তাঁর বার্তায় ইরানি কবি সাদি শিরাজির একটি কবিতার পংক্তিও শেয়ার করেছেন: “আদমের সব সন্তান একে অন্যের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ। কারণ তারা একই সত্ত্বা থেকে সৃষ্ট।”
গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় সীমান্তবর্তী ডুরান্ড লাইন এলাকায় আফগান সেনারা পাক সেনাচৌকিগুলো লক্ষ্য করে হঠাৎ হামলা চালায়। এতে অন্তত ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হন এবং আরও কয়েকজনকে আটক করা হয়।
তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানান, এটি ২১ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে পাকিস্তানি বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবে করা হয়। ওই হামলায় ৮০ জনের বেশি আফগান ও পাকিস্তানি যোদ্ধা নিহত হয়েছিল।
হামলা শেষে রাত ১২টার দিকে আফগান সেনারা ফিরে গেলে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই, শুক্রবার ভোর ৩টা ৪৫ মিনিটে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনী ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু করে। এই অভিযানের অংশ হিসেবে পাকিস্তানি বিমান বাহিনী (পিএএফ) রাজধানী কাবুল ও পাকতিয়া ও কান্দাহার প্রদেশে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। এতে কমপক্ষে ১৩৩ জন নিহত এবং আরও দুই শতাধিক আহত হন।
শেহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি জানিয়েছেন, পিএএফের বোমাবর্ষণে আফগান সেনাবাহিনীর দু’টি হেডকোয়ার্টার, ৩টি ব্রিজ হেডকোয়ার্টার, দু’টি গোলাবারুদের ডিপো, একটি লজিস্টিক ঘাঁটি, ৩টি ব্যাটালিয়ন হেডকোয়ার্টার, ২টি সেক্টর হেডকোয়ার্টার, ৮০টিরও বেশি ট্যাংক এবং বিপুল সংখ্যক আর্টিলারি ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস হয়েছে।
সূত্র: টিআরটি
ভিওডি বাংলা/এমএস







