শুরু হলো পবিত্র মাহে রমজান

বাংলাদেশের আকাশে রমজান মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ও বরকতময় মাস পবিত্র মাহে রমজান। চাঁদ দেখার পর আনুষ্ঠানিকভাবে রমজান শুরুর ঘোষণা দেয় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। এর ফলে বছর ঘুরে আবারও আত্মসংযম, ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মাসে প্রবেশ করলেন দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।
সরকারি সংস্থা ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে রমজান মাস গণনা শুরু হয়েছে। ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৬ মার্চ সোমবার দিবাগত রাতে সারা দেশে পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত হবে। এই রাত মুসলমানদের কাছে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম হিসেবে বিবেচিত।
রমজান শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেশের বিভিন্ন মসজিদে এশার নামাজের পর জামাতে তারাবিহ নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিরা। তারাবিহ নামাজের মাধ্যমেই রোজার আনুষ্ঠানিক আমেজ শুরু হয়। ভোররাতে সাহ্রি গ্রহণের মাধ্যমে রোজা রাখার নিয়ত করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থেকে সিয়াম পালন করেন।
রমজান উপলক্ষে দেশের সব মসজিদে তারাবিহ নামাজ আদায়ে একটি অভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণের অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। সংস্থাটি বলেছে, খতমে তারাবিহ নামাজে কোরআন তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে ভিন্নতা দূর করতে নির্ধারিত পরিমাণ পারা তিলাওয়াতের একটি সমন্বিত সূচি অনুসরণ করা উচিত।
ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রমজানের প্রথম ছয় দিনে প্রতিদিন দেড় পারা করে মোট ৯ পারা তিলাওয়াত এবং বাকি ২১ দিনে প্রতিদিন ১ পারা করে আরও ২১ পারা তিলাওয়াতের মাধ্যমে ২৭ রমজান রাতে খতম সম্পন্ন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এর ফলে শবে কদরের রাতে পবিত্র কোরআন খতম দেওয়া সহজ হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।
রমজান মাসজুড়ে মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে রোজা পালন করেন। এ সময় শুধু খাদ্য ও পানীয় থেকে বিরত থাকাই নয়, বরং আত্মসংযম, নৈতিক শুদ্ধতা এবং মানবিক আচরণের চর্চাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ, জিকির-আযকার এবং দান-সদকা করার চেষ্টা করেন।
ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, রমজান রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এই মাসেই পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হয়। তাই বছরের অন্য সময়ের তুলনায় রমজানের ইবাদতের গুরুত্ব ও মর্যাদা অনেক বেশি। সারা বছর অপেক্ষার পর এই মাসকে ঘিরে মুসলিম সমাজে বিশেষ ধর্মীয় আবহ তৈরি হয়।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে এক দিন আগে থেকেই রোজা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতার। অন্যদিকে চাঁদ দেখা না যাওয়ায় ওমানসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বহু দেশে বৃহস্পতিবার থেকে রোজা শুরু হয়েছে।
এই তালিকায় রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং জাপানসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশ। চাঁদ দেখার তারতম্যের কারণে বিভিন্ন দেশে রোজা শুরুর দিন ভিন্ন হয়েছে।
ভিওডি বাংলা/জা







