• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:৫২ পি.এম.
মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার মার্কিন সেনা ও যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করা হচ্ছে- ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন সেনারা কয়েক সপ্তাহব্যাপী অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার নির্দেশ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই অভিযান শুরু হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, পরিকল্পনার সংবেদনশীলতার কারণে তারা পরিচয় প্রকাশ করেননি। তাদের কথায়, এ ধরনের তথ্য প্রকাশ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনীতির জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

গত সপ্তাহে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কূটনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে ওমানে মার্কিন ও ইরানি কূটনীতিকদের মধ্যে আলোচনাও হয়েছে। তবে এর আগে ট্রাম্প বারবার ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিলেন। মার্কিন কর্মকর্তারা শুক্রবার জানিয়েছেন, পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে আরও বিমানবাহী রণতরী, যুদ্ধবিমান, গাইডেড-মিসাইল ডেসট্রয়ার এবং হাজার হাজার সেনা পাঠাচ্ছে।

এর আগে নর্থ ক্যারোলিনায় একটি ঘাঁটিতে ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি করা এখন অনেক কঠিন হয়ে গেছে। তিনি যোগ করেন, “মাঝেমধ্যে তোমাকে ভয় পেতেই হবে। এটাই একমাত্র জিনিস যা পরিস্থিতি সমাধান করতে পারে।” হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেছেন, “তেহরানের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে সব অপশন রয়েছে।”

গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার সময় যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করেছিল। ওই অভিযান ‘মিডনাইট হ্যামার’ ছিল এককালীন হামলা, যেখানে স্টিলথ বোমারু বিমান ব্যবহার করা হয়। তবে এবার পরিকল্পনা আরও জটিল।

দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এবার শুধু পারমাণবিক স্থাপনা নয়, ইরানের রাষ্ট্রীয় ও নিরাপত্তা স্থাপনাতেও হামলার পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও বিস্তারিত তথ্য তারা প্রকাশ করেননি।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান চালানো মার্কিন বাহিনীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ইরানের কাছে বড় আকারের ক্ষেপণাস্ত্রের ভাণ্ডার রয়েছে। এছাড়া পাল্টা প্রতিশোধমূলক হামলা আঞ্চলিক সংঘাত বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তারা এ ‘প্রত্যাশিত’ ঝুঁকি সম্পূর্ণরূপে বিবেচনা করে পরিকল্পনা করছে।

অন্যদিকে, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড হুঁশিয়ারি দিয়েছে, “তেহরানের ভূখণ্ডে হামলা হলে যেকোনো মার্কিন ঘাঁটিতে প্রতিশোধমূলক আক্রমণ চালানো হবে।” এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে গত বুধবার ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। দুই নেতার সাক্ষাৎ ইরান ইস্যুতে সমন্বয় বৃদ্ধির ইঙ্গিত বহন করছে।

পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে যদি সামরিক অভিযান বাস্তবায়িত হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি মিলিয়ে একটি বড় আঞ্চলিক সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

মোটকথা, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা এখন নিছক কূটনৈতিক সংঘাত নয়, বরং সম্ভাব্য সামরিক মুখোমুখি অবস্থায় পৌঁছাচ্ছে। হাজার হাজার সেনা, যুদ্ধবিমান ও রণতরীর মোতায়েন এই সংকটের মাত্রা প্রমাণ করছে।

ভিওডি বাংলা/জা
 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
মাদুরো এখনও ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট
মাদুরো এখনও ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট
নীল নদের নৌকাডুবি: সুদানে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু
নীল নদের নৌকাডুবি: সুদানে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু
কারাবন্দি ইমরান খানের দৃষ্টিশক্তির ৮৫ শতাংশ ক্ষতি
কারাবন্দি ইমরান খানের দৃষ্টিশক্তির ৮৫ শতাংশ ক্ষতি