এক মাসে এলো ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স

এক বছরে মাসিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ৪৫ শতাংশ এবং চলতি অর্থবছরে ২২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি—দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তির বার্তা নিয়ে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে আবারও শক্তিশালী গতি দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩ বিলিয়ন ১৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি।
জানুয়ারির এই রেমিট্যান্স প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজার, রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩,১৭০ মিলিয়ন ডলার। এর বিপরীতে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এই অঙ্ক ছিল ২,১৮৫ মিলিয়ন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে প্রায় ৪৫.১ শতাংশ।
বিশেষ করে মাসের শেষ দিকে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল উল্লেখযোগ্য। ২৯ থেকে ৩১ জানুয়ারি—এই তিন দিনে এসেছে ২২৯ মিলিয়ন ডলার, যা দৈনিক গড়ে প্রায় ৭৬ মিলিয়ন ডলার। ব্যাংকারদের মতে, মাসের শেষ ভাগে এই উচ্চ প্রবাহ ব্যাংকিং চ্যানেলের প্রতি প্রবাসীদের আস্থার প্রতিফলন।
অর্থবছরজুড়েই ঊর্ধ্বমুখী রেমিট্যান্স
শুধু মাসভিত্তিক নয়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই–৩১ জানুয়ারি) প্রথম সাত মাসেও রেমিট্যান্স প্রবাহে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। এই সময়ে দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১৯ বিলিয়ন ৪৩৬ মিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ১৫ বিলিয়ন ৯৬২ মিলিয়ন ডলার।
ফলে অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১.৮ শতাংশ। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটি একটি উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক ধারা।
কেন বাড়ছে রেমিট্যান্স
বিশ্লেষকদের মতে, কয়েকটি কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে—ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের দর বাস্তবসম্মত হওয়া, হুন্ডির ঝুঁকি ও ব্যয় বৃদ্ধি, নগদ প্রণোদনা অব্যাহত থাকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের কিছু দেশে শ্রমবাজার স্থিতিশীল থাকা এবং নির্বাচনের প্রাক্কালে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা কমাতে প্রবাসীদের আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর আগ্রহ বাড়া।
অর্থনীতিতে প্রভাব
রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ কিছুটা কমছে, ব্যাংকগুলোর আমদানি দায় পরিশোধে স্বস্তি মিলছে এবং টাকার বিনিময় হারে অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং চলতি হিসাবের ঘাটতি সামাল দিতেও রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ধারা যদি আগামী মাসগুলোতেও অব্যাহত থাকে, তাহলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ জন্য প্রবাসী শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, দক্ষ কর্মী পাঠানো এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের ওপর আস্থা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
ভিওডি বাংলা/ আ







