• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

ভোটারদের খুব ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান আবদুস সালামের

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:৪৮ পি.এম.
বক্তব্য রাখছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম। ছবি: ভিওডি বাংলা

আসন্ন ১২ তারিখের জাতীয় নির্বাচনকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা-১৭ আসনের বিএনপির নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বলেছেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে যদি বিএনপিকে ক্ষমতায় আনা না যায় এবং দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা না হয় তাহলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ছোট ব্যবসায়ী ও নিম্নআয়ের মানুষ। সে কারণে ভোটারদের খুব ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে ।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীতে তারেক রহমানের পক্ষে গুলশান ১ নং দ: ডিএনসিসি পাকা মার্কেট ও কাঁচাবাজার ব্যাবসায়ী সমতির উদ্যোগে নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আবদুস সালাম বলেন, ১২ তারিখের নির্বাচন কোনো হেলাফেলার নির্বাচন নয়। এই নির্বাচনে নির্ধারিত হবে বাংলাদেশে গণতন্ত্র থাকবে কি না, দেশটি জনগণের দ্বারা পরিচালিত হবে নাকি অন্য কারও দ্বারা পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে এই নির্বাচন দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ঠিক করবে।

বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে আছে। মানুষের হাতে টাকা নেই, বিদেশি বিনিয়োগ আসছে না, বড় ব্যবসায়ীরাও নতুন বিনিয়োগ করছেন না। এর ফলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না এবং অনেক ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে।

বিএনপির ইতিহাস উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছিলেন। পরে দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়া দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেন এবং জনগণের ভোটে তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। কিন্তু গত ১৭ বছরে দেশ আবার ধ্বংসের পথে গেছে ।

আবদুস সালাম অভিযোগ করেন, এই সময়ে দেশের সরকার গঠন ও পরিচালনার সিদ্ধান্ত দেশের বাইরে থেকে প্রভাবিত হয়েছে। আগস্টের অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়লেও নির্বাচন নিয়ে এখনো ষড়যন্ত্র চলছে এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিএনপি বারবার নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকার গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে। বিএনপির অপরাধ একটাই এই দেশের জন্য রাজনীতি করা। বিএনপির কোনো বিদেশি অভিভাবক নেই এবং দলটি বিশ্বাস করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে।

 ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যাকে ভোট দিলে জয় নিশ্চিত হবে, তাকেই ভোট দিতে হবে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন।  প্রধানমন্ত্রীকে ভোট দিলে জনগণ নিজেদের দাবি সরাসরি তুলে ধরার সুযোগ পাবে।

বিএনপি ক্ষমতায় এলে ব্যবসা হারানো ব্যবসায়ীদের ব্যবসা পুনরুদ্ধার, চাকরি হারানোদের কর্মসংস্থান, ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা এবং শিক্ষাবঞ্চিত সন্তানদের পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া হবে বলে তিনি জানান। একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ ও ভোটারদের যেন কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা না হয়।

তিনি বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত সততা ও ত্যাগের কথা তুলে ধরে বলেন, তিনি জনগণের নেত্রী ছিলেন বলেই সম্মান অর্জন করেছেন। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, নারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য কী করবেন, তা ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন। তারেক রহমানকে ভোট দিলে দেশের সমস্যা সমাধান হবে এবং বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডাক্তার ফরহাদ হালিম ডোনার, এম এ কাইয়ুম, ফারুক হোসেন ভূঁইয়াসহ প্রমুখ।

ভিওডি বাংলা/ সবুজ/ আরিফ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ঢাকা-৯ উন্নয়নের কেন্দ্রে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি হাবিবের
ঢাকা-৯ উন্নয়নের কেন্দ্রে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি হাবিবের
ঢাকা-৬ উন্নয়নের ভিত্তি গড়তে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ইশরাকের
ঢাকা-৬ উন্নয়নের ভিত্তি গড়তে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ইশরাকের
গণতন্ত্রের রূপকার খালেদা, ধারক তারেক: বরকত উল্লা বুলু
গণতন্ত্রের রূপকার খালেদা, ধারক তারেক: বরকত উল্লা বুলু