• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

খামেনি হুঁশিয়ারি:

যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা করলে আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৩৪ পি.এম.
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি-ছবি: সংগৃহীত

ওয়াশিংটন ও তেহরানের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যে কোনো ধরনের যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। ইরানের আশপাশে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য করা হয়েছে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, খামেনি বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিয়মিতই আক্রমণের হুমকি দেন। আমাদের জনগণ এসব হুমকিতে বিচলিত হবে না। আমরা হামলার সূচনাকারী নই, তবে আক্রমণ বা হয়রানির ক্ষেত্রে আমাদের প্রতিক্রিয়া শক্তিশালী হবে।”

ট্রাম্প বারবার ইরানে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন, বিশেষ করে পারমাণবিক চুক্তি মানা বা সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দমন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে। হুমকির পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌবাহিনীর উপস্থিতি জোরদার করেছে। বর্তমানে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি ডেস্ট্রয়ার, একটি বিমানবাহী রণতরী এবং তিনটি লিটোরাল কমব্যাট জাহাজ মোতায়েন রয়েছে। 

ইরান এখনও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা খুঁজছে। খামেনি ও অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা এমন ‘ন্যায্য’ আলোচনার জন্য প্রস্তুত, যা তাদের প্রতিরক্ষামূলক ক্ষমতা ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে নয়।

গত বছরের ডিসেম্বরে ইরানে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। ১৯৭৯ সালে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি দেশটির সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী এই বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যাপক ব্যবস্থা নিয়েছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই সহিংসতায় ইরানের বিভিন্ন প্রান্তে ৩,১১৭ জন নিহত হয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, এই পর্যন্ত ৬,৭১৩ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

খামেনির হুঁশিয়ারি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সর্তক পদক্ষেপ নিলেও যে কোনো ছোট ঘটনায় আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তবে কূটনৈতিক দরজাও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তেহরান সরকার আশা করছে, যুক্তরাষ্ট্র সহ অন্যান্য শক্তিশালী দেশগুলোর সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে উত্তেজনা কমানো সম্ভব।

ভিওডি বাংলা/জা
 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
কঙ্গোতে কোলটান খনিতে ভয়াবহ ধস, মৃত্যু ২শ’
কঙ্গোতে কোলটান খনিতে ভয়াবহ ধস, মৃত্যু ২শ’
মারাত্মক আর্থিক সংকটে জাতিসংঘ
মারাত্মক আর্থিক সংকটে জাতিসংঘ
রাশিয়া ফেরত দিল ১ হাজার ইউক্রেনীয় সেনার মৃতদেহ
রাশিয়া ফেরত দিল ১ হাজার ইউক্রেনীয় সেনার মৃতদেহ