• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

শরীরে কৃমি বাসা বাঁধার ৫ লক্ষণ এবং প্রতিরোধের উপায়

লাইফস্টাইল    ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৫৯ এ.এম.
পরিচ্ছন্নতা ও নিয়মিত কৃমি নির্মূল ওষুধ সেবন গুরুত্বপূর্ণ। ছবি: সংগৃহীত

শরীরে কৃমি সংক্রমণ কোনো বয়সের মানুষকেই ছাড়ে না। শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক-উভয়ের শরীরে কৃমি বাসা বাঁধতে পারে। থ্রেডওয়ার্ম, রাউন্ডওয়ার্ম, হুইপওয়ার্ম, টেপওয়ার্ম এবং হুকওয়ার্ম সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। অনেক কৃমির ডিম যেমন পিনওয়ার্ম ও থ্রেডওয়ার্ম, এত সূক্ষ্ম যে খালি চোখে দেখা যায় না এবং বাতাসের মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়াতে পারে।

কৃমি শরীরে প্রবেশের উপায়

কৃমি সাধারণত দূষিত খাবার ও পানি, অপরিষ্কার হাত, মাটি বা সংক্রমিত মল-মূত্রের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে। খোলা পায়ে হাঁটা, অপরিষ্কার পরিবেশে বেশি সময় কাটানোও সংক্রমণের কারণ। খাওয়ার আগে হাত না ধোয়া, অপরিশোধিত দুধ পান করা, সবজি ভালোভাবে না ধুয়ে রান্না করা, সুইমিং পুলে অপরিষ্কারভাবে গোসল করা বা পোষ্য প্রাণীর সংস্পর্শে আসাও কৃমির সংক্রমণ ঘটাতে পারে।

কৃমি শরীরের ক্ষতি কীভাবে করে

কৃমি অন্ত্রে গিয়ে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি শোষণ করে নেয়। ফলে রক্তাল্পতা, দুর্বলতা, হজমের সমস্যা, ওজন কমা ও সার্বক্ষণিক ক্লান্তি দেখা দেয়। দীর্ঘ সময় চিকিৎসা না নিলে কৃমির সংখ্যা বেড়ে মারাত্মক জটিলতা তৈরি হতে পারে। কিছু কৃমি যকৃত ও ফুসফুসে সিস্ট বা গুটি তৈরি করে, নিউমোনিয়া ও স্নায়বিক সমস্যা তৈরি করতে পারে।

শরীরে কৃমির ৫টি লক্ষণ

১. অস্বাভাবিক ক্ষুধা: কৃমি শরীরের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত করে। কেউ ক্ষুধাহীন হয়ে পড়তে পারে, আবার কেউ অস্বাভাবিকভাবে বেশি ক্ষুধা অনুভব করতে পারে।

২. ওজন কমা ও ক্লান্তি: কোনো ডায়েট বা ব্যায়াম ছাড়াই ধীরে ধীরে ওজন কমা এবং সার্বক্ষণিক ক্লান্তি কৃমির সংক্রমণের লক্ষণ।

৩. মলে কৃমি দেখা: মলত্যাগের সময় সাদা ছোট কৃমি দেখা যাওয়া অন্ত্রের কৃমির স্পষ্ট লক্ষণ।

৪. ঘন ঘন পেটব্যথা: কোনো কারণ ছাড়াই বারবার পেটে মোচড় বা খিঁচুনি অনুভব হলে তা সংক্রমণের ইঙ্গিত।

৫. ত্বক ও পায়ুপথে চুলকানি: কৃমি থেকে নির্গত বিষাক্ত উপাদান রক্তে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ত্বকে ফুসকুড়ি, চুলকানি বা অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে পায়ুপথের আশপাশে চুলকানি থাকলে অন্ত্রে কৃমির সংক্রমণ নিশ্চিতভাবে বোঝা যায়।

কৃমি সংক্রমণ প্রতিরোধের উপায়

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খাবার ও পানি গ্রহণের আগে হাত ধোয়া, সবজি ভালোভাবে ধুয়ে রান্না করা, অপরিষ্কার জলাশয় বা পুকুরে গোসল এড়িয়ে চলা এবং পোষ্য প্রাণীর সংস্পর্শে আসার পর হাত পরিষ্কার রাখা জরুরি। এছাড়া নিয়মিত কৃমি নির্মূলক ওষুধ সেবন বিশেষ করে শিশুদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শরীরের সতর্ক লক্ষণগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত চিকিৎসা নিলে কৃমি সংক্রমণ সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সঠিক পরিচ্ছন্নতা এবং ওষুধ সেবন combined করলে কৃমি সংক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকা যায়।

ভিওডি বাংলা/জা
 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
মস্তিষ্কের ওপর কী প্রভাব পড়ছে?
শিশুদের স্ক্রিন টাইম: মস্তিষ্কের ওপর কী প্রভাব পড়ছে?
মিথ্যা বলার অভ্যাস ছাড়বেন যেভাবে
মিথ্যা বলার অভ্যাস ছাড়বেন যেভাবে
শিশুর ত্বকের সমস্যা বাড়তে পারে সারাদিন ডায়াপার পরালে
শিশুর ত্বকের সমস্যা বাড়তে পারে সারাদিন ডায়াপার পরালে