তারেক রহমান:
পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা আমাদের নেই

ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, হুট করে প্লেনে চড়ে পালিয়ে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা বিএনপির নেই। জনগণের শক্তির ওপর ভর করেই গত ১৭ বছর ধরে নানা অত্যাচার ও নির্যাতনের মধ্যেও বিএনপি টিকে আছে। জনগণ সঙ্গে ছিল বলেই বিএনপি আজও রাজনীতির মাঠে দাঁড়িয়ে আছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় নওগাঁ শহরের এ-টিম মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনি প্রচারণা ও রাজনৈতিক সফরের অংশ হিসেবে উত্তরাঞ্চলের জেলা নওগাঁ সফরে যান বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে একটি পক্ষ দেশ থেকে পালিয়ে গেছে। তবে আরেকটি পক্ষ রয়েছে, যারা প্রকাশ্যে না থাকলেও ভেতরে ভেতরে সেই শক্তির সঙ্গে যুক্ত ছিল। গত ১৬ বছর তাদের মাঠে-ঘাটে পাওয়া যায়নি। তারা এখন আবারও গোপনে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। এ কারণে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে যেভাবে খালি ব্যালট বাক্সকে ভরা বাক্স হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, সেই ধরনের ‘ম্যাজিক’ যেন আর কেউ দেখাতে না পারে, সে জন্য ভোটের দিন ব্যালট বাক্স পাহারা দিতে হবে। জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা করাই বিএনপির প্রধান লক্ষ্য।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, গত ১৬ বছরে দেশের মানুষের ভাগ্যের কোনো মৌলিক পরিবর্তন হয়নি। সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন হয়নি। বিএনপি ক্ষমতায় এলে গ্রামবাংলার মানুষের উন্নয়ন ও ভাগ্য পরিবর্তনের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিশেষ করে নারীদের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করা হবে। মানুষ যেন নিরাপদে পথেঘাটে চলাচল করতে পারে এবং নিরাপদে ঘুমাতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, ঢাকাকেন্দ্রিক উন্নয়নের কথা বলা হলেও বাস্তবে সাধারণ মানুষ সেই উন্নয়নের সুফল পায়নি। মেগা প্রকল্পের নামে হয়েছে মেগা দুর্নীতি। দেশের প্রকৃত উন্নয়ন তখনই হবে, যখন গ্রাম ও প্রান্তিক মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন ঘটবে।
কৃষকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, কৃষকদের ভালো রাখলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। নওগাঁ অঞ্চল ধান ও আম চাষের জন্য পরিচিত হলেও এখানকার একটি বড় সমস্যা হলো আম সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগারের অভাব। বিএনপি ক্ষমতায় এলে আমসহ কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় হিমাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের উৎপাদিত ফসল কম খরচে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবহনের জন্য রেল ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা হবে। এতে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে।
কৃষিঋণের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কৃষকদের সুবিধার জন্য পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ মওকুফ করেছিলেন। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ মওকুফ করা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে বীজ, সারসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে কৃষকের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্ত হয় এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।
নারীদের উদ্দেশে বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, মায়েদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট সুবিধা দেওয়া হবে। গ্রাম-গঞ্জে নারীরা ভালো চিকিৎসাসেবা পান না। তাই গ্রামে গ্রামে হেলথ কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হবে, যাতে ছোটখাটো অসুখ ঘরে বসেই চিকিৎসা নেওয়া যায়।
শিক্ষিত বেকারদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, পড়াশোনা করলেই সবাইকে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে—এমন নয়। কেউ চাইলে খেলোয়াড়ও হতে পারে। স্কুল পর্যায় থেকেই খেলাধুলার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সুনাম বাড়ে এবং তরুণরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে।
তিনি বলেন, সারা দেশে বিপুল সংখ্যক শিক্ষিত ছেলে-মেয়ে রয়েছে। নওগাঁ অঞ্চল কৃষিনির্ভর হলেও এখানে কলকারখানার সম্ভাবনাও রয়েছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বাড়ানো গেলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। আইটি সেক্টরকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। আইটি-তে দক্ষ তরুণরা সেখানে কাজের সুযোগ পাবে।
জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনি সভায় আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সমবায়বিষয়ক সম্পাদক নাজমুল হক সনি, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরে আলম মিঠু, নওগাঁ ওলামা ইসলামের সভাপতি মুফতি ইলিয়াস তুহিন, কেন্দ্রীয় বিএনপি সদস্য ও মান্দা থানা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মতিন।
এ ছাড়া জয়পুরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, জেলা বিএনপির সভানেত্রী সাবিনা আক্তার পলি, সদর বিএনপির সভাপতি দেওয়ার মোস্তাক আহমেদ রাজা, পৌর বিএনপির সভাপতি ডা. মিজানুর রহমান মিজান, যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদ হায়দার টিপু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শফিউল আজম টুটুলসহ নওগাঁ ও জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন আসনের বিএনপি প্রার্থীরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে পুরো মাঠ পরিণত হয় জনসমুদ্রে।
ভিওডি বাংলা/জা







