হেমায়েতপুরে জামায়াতের নারীদের প্রচারণায় বাধা ও হেনস্তার অভিযোগ

পাবনার সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের বুদেরহাট এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিএনপির নেতাকর্মীরা জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে গেলে নারী কর্মীদের ওপর বাধা সৃষ্টি করেন এবং লাঞ্ছিত করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে পাবনা-৫ (সদর) আসনের বুদেরহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি একপর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রশাসন, পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মহিলা জামায়াতের কর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে এলাকায় যান এবং কয়েকটি বাড়িতে প্রচারণা চালান। এ সময় স্থানীয় কিছু ব্যক্তি এসে তাদের বাধা দেন এবং বলেন, এটি বিএনপি প্রার্থী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এলাকা—এখানে জামায়াতের ভোট চাওয়া যাবে না। অভিযোগে আরও বলা হয়, এ সময় তাদের উদ্দেশ্যে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়।
মহিলা কর্মীরা জানান, বাধা উপেক্ষা করে ভোট চাওয়া অব্যাহত রাখলে আরও লোকজন এসে তাদের ধাক্কাধাক্কি করে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। একপর্যায়ে ইউনিয়ন জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতা সুলতান ঘটনাস্থলে এলে তাকেও মারধর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, কিছু সময় তাদের আটকে রাখা হয়েছিল।
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে পাবনা-৫ আসনের জামায়াত প্রার্থী প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন বলেন, “ভোট চাওয়ার অধিকার সবার রয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। দুঃখজনকভাবে আজকের ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা আমাদের কাছে নিরব বলে মনে হয়েছে। আমরা এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই এবং জড়িতদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে বিএনপির প্রার্থী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ খান মন্টুসহ সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম ফুয়াদ বলেন, “ঘটনাস্থলে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করেছে। খবর পেয়ে আমরা সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যদের নিয়ে সেখানে যাই এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি নির্বাচন অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটিতে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ ধরনের সহিংসতা ও বাধা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য হুমকি—এমন মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
ভিওডি বাংলা/জা







