সম্মতি ছাড়াই ইউটিএল কমিটিতে নাম প্রকাশ এক শিক্ষিকার

ময়মনসিংহের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানবি) নতুন শিক্ষক সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)–এর কমিটিতে এক শিক্ষিকার নাম তার সম্মতি ছাড়াই প্রকাশের অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর)। ওই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে ইউটিএল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. বিলাল হোসাইন ১১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন।
ঘোষিত কমিটিতে ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শামসুজ্জামানকে আহ্বায়ক এবং লোক প্রশাসন ও সরকার পরিচালনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. হারুনুর রশিদকে সদস্য সচিব করা হয়। আহ্বায়ক সদস্যদের মধ্যে ছিলেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাহবুবুন নাহার।
তবে ঘোষণার এক ঘণ্টা পর প্রকাশিত সংশোধিত তালিকায় আহ্বায়ক সদস্যের সংখ্যা ছয়জন থেকে কমিয়ে পাঁচজন করা হয়। বাদ পড়েন ড. মাহবুবুন নাহার। সংগঠনের পক্ষ থেকে পরিবর্তনের কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
পরদিন (১৫ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে ড. মাহবুবুন নাহার অভিযোগ করেন, তার অনুমতি বা সম্মতি ছাড়াই ইউটিএল কমিটিতে তার নাম প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি লেখেন,
“গতকাল (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক এর কমিটিতে সম্মতি ছাড়া আমার নাম প্রকাশিত হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এই সংগঠনের কোনো কার্যক্রমে যুক্ত নই, কোনো মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলাম না, কোনো ফর্মও পূরণ করিনি। আমাকে না জানিয়ে এমন সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা অত্যন্ত অসম্মানজনক। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।”
পরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, “কমিটিতে আমার নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না। ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি স্পষ্ট করেছি। অনুমতি ছাড়া কারও নাম কমিটিতে সংযুক্ত করা দুঃখজনক।”
অন্যদিকে, ইউটিএল-এর নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সচিব মো. হারুনুর রশিদ বলেন, “প্রাথমিকভাবে উনার সম্মতি ছিল। পরে উনি অবস্থান পরিবর্তন করায় কমিটি সংশোধন করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, “আমরা কোনো লিখিত ফর্মের মাধ্যমে নয়, আলোচনার ভিত্তিতেই কমিটি গঠন করেছি। আহ্বায়ক ও উনার মধ্যে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, যা এখন সমাধান হয়েছে।”
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৬ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ায় ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল) আত্মপ্রকাশ করে। সংগঠনটির লক্ষ্য শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষা, একাডেমিক সততা বজায় রাখা, গবেষণার উৎকর্ষতা বাড়ানো এবং নীতিনির্ধারণে শিক্ষকদের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করা।
ভিওডি বাংলা-সিয়ামুল ইসলাম ইমন/জা







