• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
logo
শিরোনাম
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের মতবিনিময় লেবানন ও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত, নিহত বেড়ে ৪ হাজার ৩৩৩ যশোর জেলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল কওমী মাদরাসা নিয়ে উদ্বেগ, সংস্কারে ৬ প্রস্তাব শায়খ আহমাদুল্লাহর জনগণ প্রজাতন্ত্রের মালিক, তাদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদান করতে হবে: ভূমি প্রতিমন্ত্রী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন জুলাই সনদের আলোকে হতে হবে উত্তরায় পুলিশের অভিযানে ১১টি আইফোন ও স্বর্ণালংকারসহ গ্রেপ্তার ৬ প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলন: মামলা প্রত্যাহারের পথে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু গ্যাস সংকট: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বললেন তারেক রহমান এমপিও শিক্ষকদের বদলি আবেদন কবে শুরু

পাঁচদিনের বৃষ্টিতে দক্ষিণাঞ্চলে প্লাবন, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

  বরিশাল প্রতিনিধি
প্রকাশ:  ১০ জুলাই ২০২৫, ১১:৫৯ এ.এম.
শেয়ার করুন 0
পাঁচদিনের বৃষ্টিতে দক্ষিণাঞ্চলে প্লাবন, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

দক্ষিণাঞ্চলে গত পাঁচদিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। তবে সোমবার সন্ধ্যা থেকে টানা বৃষ্টির কারণে বরিশাল নগরীসহ বিভাগের জেলা শহরগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে ঘরবাড়ি, সড়ক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অপরদিকে দক্ষিণের প্রান্তিক জনপদে গত কয়েকদিন ধরে ফসলি জমি পানিতে ডুবে থাকায় ধানসহ কৃষিতে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টানা বৃষ্টির কারণে উপকূলের নিন্মাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অধিকাংশ খালে বাঁধ, জলকপাট অকেজোসহ পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা অপ্রতুল হওয়ায় তলিয়ে গেছে কৃষি খেত। ডুবে গেছে আমন বীজতলা। পানি বন্দী হয়ে পড়ছেন নিন্মাঞ্চলের বাসিন্দারা।

বরিশাল নগর ঘুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনে মুষলধারে বৃষ্টিতে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। নগরের বগুড়া রোড, মুন্সি গ্যারেজ, কালীবাড়ী, পলিটেকনিক, নবগ্রাম রোড, ভাটিখানা, পলাশপুর নিম্ম সড়ক ও এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা যায়। এসব সড়ক ও এলাকার নিচের বাসা বাড়ি, দোকান-পাটের সামনে ও ভিতরে পানি ওঠানামা করে।

এদিকে টানা ভারী বৃষ্টিতে পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকার নিন্মাঞ্চলে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। খেতের আমন বীজতলা ডুবে গেছে। জলাবদ্ধার কারনে পানি বন্দী হয়ে পড়েছে নিন্মাঞ্চলের বাসিন্দারা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার রাঙ্গাবালীর নিন্মাঞ্চল বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। আগুনমুখা নদীর পাড়ে ছোট বাইশদিয়া ইউনিয়নের কোড়ালিয়া, নয়াভাঙ্গনী, সাজিরহাওলা, ফুলখালীসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ পানি বন্ধী হয়ে পড়েছে। ঘর থেকে বেরুতেই হাটু সমান পানি পাড়ি দিয়ে চলতে হচ্ছে তাদের। নয়াভংগুনি গ্রামের বাসিন্দা জাকারিয়া জীবন জানায়, তাদের এলাকার সরকারি খালগুলো স্থানীয়রা বাঁধ দিয়ে পুকুর বানিয়ে মাছ চাষ করছেন। বাঁধের কারনে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। একটু বৃষ্টি হলেই পানিতে ঘরবাড়ি তলিয়ে যায়। এই বাঁধগুলো যদি কেটে না দেওয়া হয়। তাহলে আমাদের ভোগান্তির কোনো শেষ নাই। বৃষ্টির পানিতে গত দুইদিন ধরে আমন বীজতলা ডুবে রয়েছে। খালের বাঁধ অপসারন না করলে বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে তাদের ফসল ফলাতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

একই এলাকার বাসিন্দারা মো. সেলিম বলেন, বৃষ্টির পানিতে আমাদের রান্নার ঘর তলিয়ে গেছে। আমার যে রান্না করে খাবো সেই সুযোগ আমাদের নাই। এখন বৃষ্টির কারণে পানি শুধু বাড়ছে কিন্তু কমে না কারণে আমাদের এলাকার নদীর পাড়ের স্লুইস গেট দিয়ে পানি নিস্কাশনের কোন ব্যবস্থা নেই। আমরা এর একটা সমাধান চাই।

এছাড়াও রাঙ্গাবালীর সদর, চালিতাবুনিয়া, মৌডুবি, বড়বাইশদিয়া চরেমোন্তজ ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চলও বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। ভোগান্তির পাশাপাশি মৌসুমের আমন বীজতলা নিয়েও তারা শংকিত রয়েছেন।

রাঙ্গাবালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো, আসাদুজ্জামান জানান, বৃষ্টির জলাবদ্ধতায় তাদের কমপক্ষে ৫০০ হেক্টর আমন বীজতলা ডুবে রয়েছে। এলাকার খালগুলো অনেক আগে থেকেই বাঁধের কারণে আবার অনেক খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানির স্বাভাবিক চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়াও এখন জোয়ারের পানির প্রবল চাপ থাকায় পানি নামছে না। কৃষক যাতে ক্ষতিগ্রস্থ না হয় এ ব্যাপারে কৃষি বিভাগ থেকেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খেত থেকে পানি সরাতে কৃষকদের নিয়ে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।

রাঙ্গাবালী উপজেলার পাশাপাশি টানা ভারী বৃষ্টিতে জেলার অন্যান্য উপজেলার নিন্মাঞ্চল পানিতে ডুবে গেছে। খেতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। জেলার গলাচিপার চরকাজল ও চরবিশ্বাস এলাকার নিন্মাঞ্চলের জলাবদ্ধতার কারনে আমন বীজতলা ডুবে রয়েছে। চরকাজলের কৃষক আলম প্যাদা জানান, এক সপ্তাহ আগে তার বীজতলা শেষ হয়েছে। বীজ থেকে অঙ্কুর গজানোর আগেই তার বেীজতলা খেত বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানায়, খেতের পানি খালের মাধ্যমে নিস্কাশন হয়ে আসছে। তবে জলকপাটগুলো দখলসহ পানি ওঠানামা না করার ফলে অনেকটা অকেজো হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় অতিবৃষ্টিপাত হলেউ জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। জলাবদ্ধাতার কারণে আমন বীজতলা নিয়ে কৃষকরা ক্ষতির আশংকা করছেন ।

পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) এইচ এম শামীম জানান, এ মৌসুমে জেলায় এক লক্ষ ৯০ হাজার ১১৫ হেক্টর আমন আবাদের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে । এর জন্য বীজতলা প্রয়োজন ১৩ হাজার ৮০০ হেক্টর। এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৬৫০ হেক্টর আমন বীজলা হয়েছে।

তিনি জানান, টানা বৃষ্টিতে আমন বীজতলা জলাবদ্ধতায় আত্রান্ত হয়েছে । দীর্ঘদিন পানিতে ডুবে থাকলে ক্ষতির আশংকা থাকবে। তবে পানি সরে যাচ্ছে তাই ক্ষতির হবে না বলেই মনে হচ্ছে।

ভিওডি বাংলা/ এমএইচ


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মাদকবিরোধী অভিযানকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে: মির্জা ফখরুল
ছবি: সংগৃহীত
আহত জুলাই যোদ্ধার নবজাতক কন্যার জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার
যশোরে জামায়াতের সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ করছেন স্থানীয়রা। ছবি: সংগৃহীত
যশোরে জামায়াত এমপির বাড়ি ঘেরাও